নারায়ণগঞ্জে গুম-অপহরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন অপহরণের ঘটনা তদন্ত, অপহূত ব্যক্তিদের উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী বাহিনীর ব্যর্থতা বর্তমান সঙ্কটজনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ পাঠানো এ বিবৃতিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জে পৌর করপোরেশনের প্যানেল মেয়র কমিশনার নজরুল ইসলাম ও তার পাঁচ সহযোগী এবং আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার চালককে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ বোধ করছি।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সালাহউদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক অজয় রায়, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, ডা. সারওয়ার আলী, রামেন্দু মজুমদার, মফিদুল হক, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় লুটেরা দুর্বৃত্ত অপরাধী চক্র এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী তাদের অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ করছে। বিবৃতিদাতারা উদার অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রা বিপথগামী করার জন্য প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যেসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা কঠোর হাতে দমন করারও দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত রবিবার নজরুল ও চন্দন সরকার ছাড়াও অপহূত হন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী মনিরুজ্জামান স্বপন ও লিটন, চন্দনের গাড়িচালক মো. ইব্রাহিম এবং নজরুলের গাড়িচালক মো. জাহাঙ্গীর। তিন দিন পর গত বুধবার শীতলক্ষ্যা নদীতে হাত-পা বাঁধা ছয়টি লাশ ভেসে ওঠে। পরের দিন বৃহস্পতিবার আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
