খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব অনেক বেশি

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ১৯:৩২
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সি এম মিরাজুল ইসলাম প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ বাংলাদেশের জনসংখ্যা অধ্যায় থেকে প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো প্রশ্ন-ক: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো কী? উত্তর: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সা ইত্যাদি। প্রশ্ন-খ: খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব লেখ। অথবা, খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাঁচটি প্রভাব লিখ। উত্তর: খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব অনেক বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। কেননা অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য অতিরিক্ত খাদ্য উত্পাদন করা সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৫ লক্ষ টন খাদ্য ঘাটতি হয়। খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব: খাদ্যের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবগুলি হচ্ছে– ১. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য ঘাটতি হয়। ২. অতিরিক্ত জনসংখ্যার বসতি স্থাপনের জন্য কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এতে খাদ্য উত্পাদন কমে যাচ্ছে। ৩. অতিরিক্ত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ৪. খাদ্যের অভাব দেখা দিলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় বেশি ভোগে। ৫. খাদ্য সামগ্রির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় ফলে অনেক দরিদ্র লোক অনাহারে থাকে। পরিশেষে বলা যায় যে, দেশে খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টির পেছনে অতিরিক্ত জনসংখ্যার নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি। খাদ্য ঘাটতি দেশের ভবিষ্যত্ উন্নয়নে বাঁধার সৃষ্টি করে। প্রশ্ন-গ: অতিরিক্ত জনসংখ্যা থাকলে শিক্ষার কী সমস্যা হয়? উত্তর: শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি করে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। নিরক্ষর লোক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে না। অতিরিক্ত জনসংখ্যা শিক্ষা ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলি সৃষ্টি করে: ১.অতিরিক্ত জনসংখ্যার প্রয়োজন অনুসারে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক, অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না। ২. অনেক দরিদ্র পরিবারে জনসংখ্যা বেশি থাকলে অধিক রোজগারের আশায় শিশুদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে কাজে পাঠায়। ৩. শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি যে বরাদ্দ থাকে তা দিয়ে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ৪. অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য অনেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ৫. অনেকে স্কুলে ভর্তি হলেও দারিদ্র্যের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। ফলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায় না। বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে সফলতা সত্ত্বেও শিক্ষিতের হার বাড়ছে না। প্রশ্ন-ঘ: জনসম্পদ কাকে বলে? উত্তর:দক্ষ জনসংখ্যাকেই জনসম্পদ বলে। জনসম্পদ হচ্ছে কোন দেশের শ্রমশক্তি। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম উপাদান হচ্ছে জনসম্পদ। প্রশ্ন-ঙ: জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের পাঁচটি উপায় লেখ। অথবা, জনসংখ্যাকে কীভাবে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়? উত্তর: জনসম্পদ হলো কোন দেশের শ্রমশক্তি। কোন দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হলে জনসংখ্যা দেশের জন্য সমস্যা না হয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হবে। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের উপায়: বিভিন্নভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়। নিম্নে এই উপায়গুলো আলোচনা করা হলো- ১. শিক্ষা প্রদান: মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান উপাদান হলো শিক্ষা। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রুপান্তর করা যায়। তাই দেশে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। ২. কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান: আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অদক্ষ জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। ৩. জনশক্তি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হবে। ৪. জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। উপযুক্ত পুষ্টির ব্যবস্থা, পরিবেশ সম্মত আবাসন ও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা যায়। ৫. কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি: কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হলে জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা ও শ্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এই দুইটি বিষয়ের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশে জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, উপরোক্ত উপায়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়।