চাটমোহরে কৃষক নয়, খাদ্যগুদামে গম দিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও নেতারা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ২১:২৯
‘৩০ বিঘা জমিতে গম বুনেছিলাম। পাইছি প্রায় ২শ মণ। এক মণ গমও গোডাউনে দিতে পারি ন্যাই। আমার কৃষক কার্ড আছে। তারপরও আমার কাছ থাক্যে গম নেয়া হয় নাই। না নিলি কি করা যাবি’- কথাগুলো তরুণ কৃষক শামীমের। শামীমের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামে। শুধু শামীম নয়, উপজেলার প্রকৃত কৃষক কার্ডপ্রাপ্ত একজন কৃষকও চলতি গম সংগ্রহ অভিযানে উপজেলা খাদ্য গুদামে গম দিতে পারেনি- দাবি খোদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার। উপজেলা আওয়ামী লীগও সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে গম সংগ্রহ অভিযানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১ এপ্রিল থেকে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে জুন মাস পর্যন্ত। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪শ টন। সরকারি বিধান- কৃষক গুদামে সরবরাহকৃত গমের দাম পাবে প্রতিমণ ১ হাজার ৮০ টাকা। বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এ চার ধরনের কৃষক কার্ডের ধরনভিত্তিক নির্দিষ্ট পরিমাণ গম সরবরাহ করতে পারবে। কৃষক ছাড়া কোন ব্যবসায়ী বা অন্য কেউ গম সরবরাহ করতে পারবে না। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর উপজেলায় ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উত্পাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৩শ টন। ২১ হাজারের বেশি কৃষক এবছর গমের আবাদ করেছে। এসব কৃষকের প্রত্যেকের রয়েছে কৃষক কার্ড। বাজারে প্রতিমণ গম বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকা দরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কার্ডপ্রাপ্ত একজন প্রকৃত কৃষকও গম দিতে পারেনি, পারছে না। তবে সরকারি বিধান কাগজ-কলমে ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্টরা কৌশল অবলম্বন করছেন। কৌশল হিসেবে কৃষক কার্ডের ফটোকপি দিয়ে গুদামে টন টন গম সরবরাহ করছেন এলাকার চিহ্নিত ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী নেতারা। গুদামে গম সরবরাহের তালিকায় যেসব কৃষকের নাম রয়েছে- তাদের কেউই একদানা গমও গুদামে সরবরাহ করেননি। তালিকায় নাম থাকা একাধিক কৃষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুঞ্জন উঠেছে, কৃষকের কার্ড ফটোকপি করে ‘কৃষক সেজে’ গম সরবরাহের কারণে এসব ব্যবসায়ীর নিকট থেকে বস্তা প্রতি ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ৩০/৩৫ টাকা আদায় করছেন। যদিও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো বলেন, গম সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হচ্ছে। গম ক্রয় কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলম বলেন, আমার একটা কৃষকের নিকট থেকে এক দানা গমও নেয়া হয়নি। আমার নিকট একজন কৃষক এসেছিল গম দেয়ার জন্য। আমি ঐ কৃষককে একটি স্লিপ দিয়ে গোডাউনে পাঠিয়েছিলাম। ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তার গম না নিয়ে ফেরত দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভুয়া কৃষক কার্ডের ফটোকপি দিয়ে ব্যবসায়ীরা গম দিচ্ছে গোডাউনে। তদন্ত করলেই বিষয়টি বের হয়ে আসবে। ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মাসুদ রানা সাংবাদিকদের নিকট দাবি করেছেন, কোন অনিয়ম করা হচ্ছে না। যা কিছু করা হচ্ছে তা উপরের নির্দেশেই করা হচ্ছে। গম ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ‘কোন কৃষক আমার নিকট অভিযোগ করেনি। আমি গম সংগ্রহ অভিযান পরিদর্শন কালে কোন অনিয়ম পাইনি। কার্ড দেখে কৃষকের নিকট থেকে গম নেয়ার কথা বলেছি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে। তারপরও অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’