চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার কার্যকর ভূমিকার অভাবে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশাল জায়গা নিলাম পণ্যের দখলে থাকায় কন্টেইনার রাখার স্থানসংকুলান হচ্ছে না।
যথাসময়ে পণ্য নিলাম না করার জন্য কাস্টমসের নিলাম শাখার কর্মকর্তাদের অবহেলা, গাফিলতির সাথে সাথে দুর্নীতিও জড়িত বলে অভিযোগ। নিলাম শাখায় সংঘবদ্ধ চক্র নিলাম পণ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে।
নিলামে অংশগ্রহণকারী সংঘবদ্ধ চক্র নির্দিষ্ট পণ্য তারা না পেলে এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চিঠি চালাচালি শুরু করে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটি পণ্যের পুনরায় নিলাম করা কিংবা যে ব্যক্তি নিলামে পণ্য পেয়েছে তাকে হয়রানির মুখে ফেলে দেয়। এতে করে নতুন করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশগ্রহণ করতে উত্সাহ হারিয়ে ফেলে। এ সুযোগে অল্পমূল্যে নিলামে অংশগ্রহণ করে বেশি মূল্যের পণ্য হাতিয়ে নেয় এই চক্র। সংঘবদ্ধ চক্রের নামে-বেনামে দেয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দেয়া হয়। কাস্টমসের নিলাম শাখার নিম্নস্তরের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অসাধু চক্রের সহায়তা করে থাকেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখায় যে সকল সহকারী কমিশনার কিংবা ডেপুুটি কমিশনারের পদায়ন হয় তারা এটাকে তাদের স্বাভাবিক কর্মস্থল হিসেবে গ্রহণ করে না। এটাকে এক প্রকার কম গুরুত্বপূূর্ণ স্থানে পদায়ন হিসেবে মনে করে থাকে। এতে করে নিলামের কর্মকাণ্ডে ভালভাবে মনোনিবেশ না করে বরং উক্ত স্থান থেকে অন্যত্র বদলির জন্য বেশি তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে দেখা যায়, নিলাম শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের মেয়াদ বেশিদিন স্থায়ী হয় না। নিলাম শাখার কর্মকর্তাদের এই অবহেলা ও গাফিলতির সুযোগ গ্রহণ করে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসাধু সংঘবদ্ধ চক্র।
কাস্টমসের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো পণ্য এক মাসের বেশি সময় ধরে আমদানিকারক না নিলে তা নিলামযোগ্য হয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে এমন অনেক পণ্য রয়েছে যা কয়েক বছর ধরে পড়ে আছে, কিন্তু নিলাম হয়নি। কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোনো নিলাম পণ্য তার এসেসমেন্ট ভ্যালুর শতকরা ৬০ ভাগ না উঠলে সাধারণত দেয়া হয় না। সেক্ষেত্রে তিনবার পর্যন্ত নিলাম ডাকার বিধান রয়েছে। এ সুযোগে অনেক সময় দেখা যায়, তৃতীয় নিলামে প্রথম ও দ্বিতীয়বারের চেয়ে কম মূল্যে অনেক পণ্য খালাস নেয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামের অপেক্ষায় সহস্রাধিক মূল্যবান গাড়ি রয়েছে। এ সকল গাড়ির অনেকগুলো শুধুমাত্র দীর্ঘসূত্রতার কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া অসংখ্য নিলাম উপযোগী পণ্য খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় দিন দিন এগুলো বিনষ্ট হচ্ছে। অথচ দ্রুত নিলামের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় যেমন সম্ভব, একইসাথে বন্দরের বিশাল জায়গা উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। নিলাম শাখার সংশ্লিষ্টদের সাথে জানতে চাইলেও তারা কাস্টমসের নিলাম উপযোগী পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ জানাতে পারেনি। কাস্টমসের নিলামকারী প্রতিষ্ঠানও যথাসময়ে নিলাম দেয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি ও অনিয়ম করে থাকে। তারা একটি পণ্য একবার নিলাম দেয়ার পর নির্দিষ্ট মূল্য না উঠলে পুনরায় নিলামে উঠানোর নিয়ম থাকলেও অনেক সময় তা করা হয় না। কাস্টমসের নিলাম কমিটি বৈঠক করলেও তার কোনো ধারাবাহিকতা না থাকায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।
