নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কম

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ২৩:১৯
ভারতীয় লোকসভার নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তাগণ বলেছেন, দুই দেশ নিজেদের স্বার্থেই সম্পর্ক ভাল রাখা উচিত। দু’দেশের সম্পর্কে ছেদ পড়লে আঞ্চলিক সমস্যাগুলো বড় হয়ে দেখা দেবে। লোকসভার নির্বাচনে কে বিজয়ী হবেন? এমন প্রশ্নে ভারতের বিশেষজ্ঞগণ বলেন, বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের জন্য কোন ঝুঁকি নেই। ‘নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আয়োজন করে বেসরকারি সংগঠন ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অবঃ) আবদুর রশীদের সভাপতিত্বে গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক কুলদীপ নায়ার, পিস এন্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অবঃ) দীপঙ্কর ব্যানার্জী, বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জী ও বিনা সিক্রি, ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম, ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাংবাদিক জগলুল আহমেদ চৌধুরী, গবেষক সলিমুল্লাহ খান, সাবেক কূটনীতিক শফিউল্লাহ ও ওয়ালিউর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকমল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ভারতের সাংবাদিক মহেন্দ্র বেদ ও জয়ন্ত ঘোষাল প্রমুখ। গোলটেবিল আলোচনায় সঞ্চালক ছিলেন সামিয়া জামান। বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদীর ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে কুলদীপ নায়ার বলেন, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাবনা খুব কম। আর তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হবে না। ভারতের সংবিধানে সবার উপর গণতন্ত্র। গণতন্ত্র কারো একার নয়, সবার ব্যাপার। গণতন্ত্র অর্থ বহুতন্ত্রবাদ। তাই মোদী একা চাইলেই সবকিছু হবে না। সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই সক্রিয় ও জোরালো। নির্বাচনে লোকসভার ৫৪৩টি আসনের ২৭৩টি আসন বিজেপি এককভাবে নাও পেতে পারে। বিজেপিকে জোটের শরণাপন্ন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন কংগ্রেস জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সুশাসনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সফলতা খুব কম। তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত চুক্তির মতো ইস্যুতে বাংলাদেশকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেন, নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ভাল রাখা উচিত। দু’দেশের সম্পর্ক ভাল না থাকলে আঞ্চলিক সমস্যার উদ্ভব হবে। দু’দেশ একমত ও একে অপরের সহযোগী না হলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা কঠিন হবে। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলেন, দু’দেশের সম্পর্কে একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার হলে রাতারাতি সেই সম্পর্ক পাল্টে যাবে বলে মনে হয় না। মেজর জেনারেল (অবঃ) দীপঙ্কর ব্যানার্জী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে যেগুলো নিয়ে দুই দেশের সরকারকে একসাথে কাজ করতে হবে। পানিসম্পদ, জনসম্পদ, সীমান্ত, উন্নয়ন কানেকটিভিটি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব থাকলে কোন দল ক্ষমতায় সেটা বাধা হবে না। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, তিস্তার চুক্তি না হওয়া একটি খারাপ নজির। ৪২ বছরে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার সরকার আসার পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে শেখ হাসিনা সরকার যত ভাল উদ্যোগ নিয়েছে বিপরীতে ভারত অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক বলেন, দু’দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য বৈষম্য রয়েছে। ভারতকে আমরা যেভাবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি ভারত সেভাবে দেয়নি। যে সরকারই ভারতে আসুক বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। অধ্যাপক আকমল হোসেন বলেন, দু’দেশের মধ্যে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে পানি। পানি সমস্যার সমাধান হলে অন্যগুলোও নিষ্পত্তি হবে এবং সম্পর্কের আরো উন্নতি হবে। পশ্চিমবঙ্গ, নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের পক্ষে লবি নিয়োগ করা উচিত।