ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য অনুপ্রবেশ মানতে হবে কেন

আপডেট : ০৩ মে ২০১৪, ২৩:২০
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে সেদেশ থেকে ভারতে ‘অনুপ্রবেশ’ মেনে নিতে হবে কেন। গত কয়েকদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কথা বলার পর ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাত্কারে একথা বলেছেন মোদী। সাক্ষাত্কারে মোদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু পৃথিবীর কোনও সভ্য দেশ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানায় না। দীর্ঘদিনের কংগ্রেস শাসনে এটি হয়েছে। অনুপ্রবেশকারী শুধু রাজ্য নয়, দেশের অর্থনীতিকে বিপন্ন করে। অনুপ্রবেশকে মেনে নেওয়ার পূর্ব শর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে হবে কেন? বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়নে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক, সব দিক থেকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। তাই বলে অনুপ্রবেশকারীদের, যারা বিদেশি নাগরিক তাদের রেশন কার্ড দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, সেটি হতে দেওয়া চলবে না। আমদাবাদে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বসে আনন্দবাজার পত্রিকাকে এই সাক্ষাত্কার দেন মোদী। তিনি আশা করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘অলৌকিক’ কিছু হবে এবং তৃণমূলের নৌকা ডুববে। তবে এত সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তৃণমূলকে আলাদা করে দেখতে আগ্রহী মোদী। তিনি বলেছেন, রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা তিনি করবেন। রাজ্যের ঋণ মওকুফ করবেন কি না, সেটা সরাসরি বলতে এখনও নারাজ। তবে জট ছাড়াতে ‘সব রকম’ সাহায্য করবেন বলে জানান। মোদীর বক্তব্য, ঋণ মওকুফ নয়, শিল্পায়নই রাজ্যের আর্থিক সমস্যার আসল সমাধান। টাটাদের ছোট গাড়ির কারখানা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে আসায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি খুশি হয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হলে সিঙ্গুরের সঙ্কট মোচনে কেন্দ্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে। মোদী মনে করেন, বামেদের জন্যই রাজ্যের ‘বারোটা’ বেজেছে। তারা এত দিন ধরে বলে এসেছে, ‘নেহি চলেগা, নেহি চলেগা’। পশ্চিমবঙ্গে তাই কিছুই চলে না। দেশের পূর্বাংশ দুর্বল, আর পশ্চিমাংশ সবল। দেশ শক্তিশালী হবে কী করে। তিনি বলেন, মমতা সম্পর্কে কোনও ব্যক্তিগত বিরূপতা নেই। কিন্তু সারদার দুর্নীতি নিয়ে আজ ঘরে ঘরে প্রশ্ন। মাত্র তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পর কেন এত অভিযোগ? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এ সব প্রশ্নের জবাব তো দিতেই হবে। তা না করে উনি রেগে যাচ্ছেন। বিরোধীরা ‘ঘাতক’ বলছেন -এ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, এটা একটা মাইন্ডসেট। কিছু লোক মনে করে, এসব বলে বোধহয় কোনও একটি সম্প্রদায়ের ভোট পেতে সুবিধা হয়। আমি তো সেই ২০০২ সাল থেকে এই অপবাদ শুনে আসছি। আর গুজরাটের সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরাও আমাকে ভোট দিচ্ছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেন মোদী তার সাক্ষাত্কারে। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গেই ভারত সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু সুসম্পর্কের ভিত্তি বাস্তবকে অস্বীকার করে আত্মসমর্পণ নয়।