নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন ২৭ এপ্রিল ফতুল্লা স্টেডিয়ামের কাছ থেকে প্রকাশ্যে অপহূত হওয়ার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পুরো নেটওয়ার্ক নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় হয়। পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙখলা বাহিনীর তত্পরতাও বেড়ে যায়।
কিন্তু এই তত্পরতার মধ্যেই অপহূত সাতজনকে হত্যা করে ইট বেঁধে তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। অপহরণের তিন দিন পর সেই শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের লাশ একে একে উদ্ধার করা হয়। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজ এ বিষয়টিকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সরাসরি প্রশ্ন - আইন-শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর পুরো নেটওয়ার্ক যেখানে সক্রিয় সেখানে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটে কি করে? তাদের অভিযোগ ও সন্দেহ - স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কিংবা কোন সংস্থার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় লাশগুলো নদীতে ফেলা হয়েছে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই চরম ব্যর্থতার কথা এখন নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর মুখে মুখে। তারা মনে করেন - নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের ঘুষখোর কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার ফসল এ সব হত্যাকাণ্ড। তারা আরো বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সোর্স মানি হিসেবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু সাতজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হলো, আর গোয়েন্দারা কিছুই জানতে পারলো না - এটা কেমন কথা? এই ঘটনাটিকে গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের চরম ব্যর্থতা হিসাবেও আখ্যায়িত করেছেন তারা।
