আসামের কোকড়াঝড় এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিদের হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তাছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা একথা জানান। তিনি বলেন, অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি আরো জানান, কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফ্যিউ জারি করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
এদিকে, বোড়োল্যান্ড ও কোকরাঝাড়ে জঙ্গি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। গতকাল শনিবার ভোরে বাকসা গ্রাম থেকে আরও ৯টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এর মধ্যে দুই মহিলা ও চার শিশু রয়েছে। এই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। পর পর দু’টি জঙ্গি হামলায় বৃহস্পতিবার রাতেই আসামের কোকরাঝাড় ও বাকসায় নিহত হয়েছিন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। আচমকা গ্রামের মধ্যে হানা দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি ৩৬টি বাড়িতে আগুনও জ্বালিয়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা। বৃহস্পতিবারের হামলার পরই বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের চারটি জেলাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশের দাবি, শুক্রবার তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে এক বোড়ো জঙ্গি।
লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে এই জঙ্গি হামলার সম্পর্ক পুলিশ অস্বীকার করলেও কোকরাঝাড়ের গ্রামবাসীদের অনেকেরই দাবি, এ বারের ভোটে নির্দিষ্ট একটি দলকে ভোট না দেওয়ার বদলা নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ বোড়োল্যান্ডে আটকে পড়া বাংলাভাষী মুসলমান।
