সাংবাদিক দম্পতি মুকুল-নাজনীনের ছয় বছরের মেয়ে চন্দ্রমুখী শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। আর একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে ৫ তলা বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দৈনিক জনকণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মা নাজনীন আক্তার। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখি নাজনীনের সেবা করছেন দুই মা। একজন নিজের জন্মদাত্রী মা অপরজন শাশুড়ি মা। মায়ের এই পাশে থাকা নাজনীনকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনছে। মা আমাদের জীবনকে সুন্দর সার্থক করতে সবসময় সব প্রয়োজনে পাশে থাকেন। মা দিবসকে সামনে রেখে সব বেলায় মায়ের প্রয়োজন নিয়ে লিখেছেন— রাবেয়া বেবী
বিদেশ বিভূঁইয়ে আমার মা
পাপড়ির বিয়ে হয়েছে দশ বছর। সহপাঠী স্বামীকে নিয়ে বিয়ের কিছুদিন পরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। স্বামীর পড়াশুনা নিজের পিএইচডি করে এক সময় দেখেন, মা হওয়াটা এখন ভীষণ প্রয়োজন। চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা চরিত করে এক সময় সন্তান ধারণ করেন পাপড়ি। এ সময় হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে তার শারীরিক যে অবস্থা হয় তাতে একা স্বামীর পক্ষে সব সামাল দেয়া সম্ভব হয় না। তাই ডাক পড়ে মায়ের। নাতনীর জন্ম, তার একটুখানি বেড়ে ওঠা, মেয়ের সংসার গুছিয়ে দেয়া, সব মিলিয়ে রিজু সেবার নয় মাস অস্ট্রেলিয়া ছিলেন। নিজের সংসার স্বামী আর ছেলেকে রেখে গেছেন কাজের লোকের ওপর। মাঝে-মধ্যে উত্তরা থেকে ছোট মেয়ে এসেছে, বোনরাও দেখেছে। তারপর দেশে ফেরার পর মেয়ে একটু একটু করে বড় হয়েছে। তার আগে শুধু দুধ খাওয়ানো বাদে সবই করেছেন মেয়ের জন্য মা।
বাচ্চাতো মায়ের কাছেই মানুষ হয়
সুরভী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। স্বামী চিকিত্সক। নিজের সংসারে আজ ছোট দুটি ছেলে। শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামের বাড়িতে না থাকলেই নয়। এরই মধ্যে একবার বড় ছেলের অসুস্থতার জন্য তাকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়তে হয়েছে। আবার ছেলের স্কুল, নিজের শিক্ষকতা, স্বামীর ব্যস্ততা সব মিলেই চিন্তায় ছিলেন তিনি। তারপরেও একবার বড় ছেলের প্রচণ্ড অসুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে। বাবা-মা দুইজনেই যখন অবসর নেন তখন সুরভীই তাদের নিজের বাড়িতে রাখার মত প্রকাশ করেন। দুই বোনের মধ্যে বড় হওয়ার এই বয়সে তাদের কাছে রাখার দায়টাও থাকে। আর মায়ের কাছে যত্নে থাকে ওরা। সুরভী বলেন, একবার আমার চিকেন পক্স হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত যে মা পাশে ছিলেন। আমার যত্নতো করেছেনই পাশাপাশি ছেলে দুটোর সব দায়িত্ব নিয়েছেন।
স্কুলে নেয়ার দায়িত্বটা মায়েরই
শানু একটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বারডেমে একটি কোর্স করছে। স্বামী থাকে দেশের বাইরে। তাই ছেলেকে নিয়ে শানু মায়ের বাড়িতেই আছে। কারণ সে যখন হাসপাতালে থাকে তখন মাই ছেলেকে দেখাশোনা করে। শ্বশুর বাড়িতে এত নিশ্চিন্তে রেখে সে যেতে পারতো না। আর গত বছর ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আরও ভারমুক্ত সে। কারণ ছেলের স্কুলে নেয়া-আনার দায়িত্বটা মা-ই পালন করেন। কখনও নাইট আবার কখনও মর্নিং ডিইটি শানুর। ছেলের স্কুল যাতায়াতে কোন বিঘ্ন ঘটায় না। কারণ মাইতো ছেলেকে স্কুলে নেয়। আর ছেলেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এদিকে ছেলের ঘরের নাতিরও স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। মা ভাবেন তাকেও তারই স্কুলে নিতে হবে। ছেলে বলবে আমার ছেলেকে নিতে পারবা না? তাই নাতিদের স্কুলে নেয়ার দায়িত্বটাও মায়ের।
