বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার অনেক বেড়েছে। পেশা হিসেবে এক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগামিতার চিত্র বেশ লক্ষণীয়। এ প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল ডাচ বাংলা ব্যাংকের আইটি ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তা তানজীমা আজাদের সাথে। তিনি এমআইএসটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করছেন
সেই কখন থেকে চেষ্টা করছি, সব যুক্তি ঠিক আছে, সম্পূর্ণ প্রোগ্রামটা লিখলাম, তারপরও ওয়েবপেইজে কেন নামটা আসছে না? মানে কী? না বুঝে বাচ্চাদের মত পিসির উপরই রাগ উঠছিল, যেন আমার কোনো দোষ নেই, সব দোষ পিসিরই। যেন যন্ত্রটা ইচ্ছা করে দেখাচ্ছে না। হঠাত্ মনে হল ইস, ওখানে লিখেছি তো এক নাম, আর এখানে দেখাতে বলছি অন্য নাম। কীভাবে ওয়বপেইজের নামটা আসবে। নিজের ভুল ধরতে পেরে প্রায় খুশিতে লাফিয়ে উঠে আবিষ্কার করলাম, আমি এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। এভাবেই রুমা তার এক দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, প্রোগ্রামিং এমন এক পেশা যেটা একটু নেশার মতই। খারাপ অর্থে বলছি না, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে এর কোন শুরু বা শেষ নেই। কোন জায়গায় আটকে গেলে অফিস বা বাসা বলে কোন ব্যাপার থাকে না। সারাক্ষণ মাথায় সেটা ঘুরতেই থাকে, যতক্ষণ না সমাধান হয়। যার প্রোগ্রামিং ভাল লাগে, তার লাগেই। যে তার প্রকৃত মজা একবার পেয়ে যায়, সেটা ছাড়তে পারে না। আমার প্রোগ্রামিং সেকশনে চাকরির অভিজ্ঞতা প্রায় চার বছর হতে চলল। আমি যে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ি তখন খুব কম মেয়েই আমার সাথে পড়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে এক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। আমাদের সফটওয়্যার কোম্পানীতে এ বছর নতুন তিনজন প্রোগ্রামার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সবাই মেয়ে। কাজের সময় নিয়ে সিষ্টেমস ম্যানেজমেন্টে একটু সমস্যা হয়, শিফটিং ডিউটি বলে, তবে সেটা সব চাকরিতেই কমবেশি থাকে। আমাদের দেশ তথ্য প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়েই চলেছে, তাই সবক্ষেত্রেই আইটি প্রোগ্রামার, ওয়েব পেইজ ডিজাইনার, সিষ্টেমস মেনেজম্যান্টে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে অনেক বেড়েছে। তাই আমাদের চাকরির সুযোগও বেড়েছে। এভাবেই রুমা তার চাকরি জীবনের চিত্র তুলে ধরলেন।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার অনেক বেড়েছে। পেশা হিসেবে এক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগামিতার চিত্র বেশ লক্ষণীয়। এ প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল ডাচ বাংলা ব্যাংকের আইটি ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তা তানজীমা আজাদের সাথে। তিনি এমআইএসটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে তার অনার্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে প্রোগ্রামার হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাজ মূলত প্রজেক্ট নির্ভর। একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রোজেক্ট সম্পন্ন করতে হয়। ব্যাংকের নানা ধরনের রিপোর্ট, হিসাব নিকাশের সফটওয়্যার আমরা নিজেরা তৈরি করে থাকি। প্রোগ্রামিং কাজের ক্ষেত্রে কোন একটা সমস্যা সমাধান না করা পর্যন্ত কাজ ফেলে রেখে বাসায় যাওয়া বেশ কঠিন এবং এটি একটি সত্য। বাসায় এসেও অনেক সময় তাই দেখা যায় কম্পিউটারে সেই প্রোগ্রামিং চলতেই থাকে। নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি করতে হয় বলে এর মধ্যে এক ধরনের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, নিজস্বতার প্রয়োজন পড়ে। একই নিয়মভিত্তিক কাজ থেকে আমাদের ক্ষেত্রটি তাই ভিন্ন। আমি শিক্ষা জীবনে যখন প্রথম প্রোগ্রামিং শিখি, সে সময় খুব সহজ এক কাজ নিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দিয়েছিলাম। সেই থেকে এখনও এমন অনেক দিনই কাটিয়ে দেই এবং আমি তাতে খুশিই। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের কাজের সুযোগ বাড়ছে, তাই নানা ধরনের কাজেই আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
এক্ষেত্রে সামিনা আক্তার বলেন, আমার আইটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ওয়েব ডিজাইনিং এর মধ্য দিয়ে। আমার পড়ার বিষয় ছিল এ্যাপলাইড ফিজিক্স। আমাদের প্রোগ্রামিং এর কোর্সও ছিল। তার মধ্যে দিয়েই আমার প্রোগ্রামিং জীবনের সূচনা। পড়াশোনা চলাকালে আমি একটি কোম্পানিতে ওয়েব পেইজ ডিজাইনিং এর কাজ শুরু করি। পাস করার পর একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে দুই বছর কাজ করি। এসময় ডিজাইনিং, প্রোগ্রামিং-সব ক্ষেত্রে নতুন জিনিস শিখতে পারি, জানতে পারি। তবে ধীরে ধীরে ফ্রি ল্যান্সিং এর দিকে সরে আসি। এখানে নানা ধরনের ক্ষেত্রে আমার কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রথম একটি কোম্পানিকে ওয়েবসাইট তৈরি করে দেই। তাদের সাইটের মেইনটেন্যান্স করছি এখনও এবং সে থেকে আমার আয়ও হচ্ছে। এরকম কয়েকটি কোম্পানিরে কাজ করতে করতে এখন বিদেশেও একটি দুটি কোম্পানিকে আমি ওয়েবসাইট করে দিয়েছি। এভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। আমার সন্তান যখন খুব ছোট তখনও ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পেরেছি প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে। পাশাপাশি আবার ওর দেখাশোনাও চালিয়ে গেছি। আমার পেশাজীবনের প্রায় সাত বছর হতে চলল। আমি মনে করি এক্ষেত্রে আমার জন্য এখনও অনেক দিকে পথ খোলা আছে। আমার কাছে এখন অনেকে প্রোগ্রামিং শেখেও। অনেকে কম বয়সেই ঘরে বসে বিভিন্ন ছোটখাটো কোম্পানির পেইজ ডিজাইনিং এর মধ্যে দিয়ে প্রোগ্রামিং এর কাজ করতে পারে। প্রোগ্রামিং শেখা খুব কঠিন বিষয় নয়। তবে এক্ষেত্রে তার আগ্রহ থাকতে হবে, বুঝতে হবে। এখন জগত্টা এতই ছোট হয়ে গিয়েছে যে ঘরে বসে পৃথিবীর যে কোন দেশের কোন কোম্পানির কাজ করে দেবার মধ্যে দিয়েও আয় করা সম্ভব।
