গায়িকা, নায়িকা নাকি নাচিয়ে কোনটি নন তিনি? যে কোন একটি দিয়ে পরিচয় দিতে চাইলে সেটা হয়তো তার পরিচয়কে পূর্নাঙ্গভাবে তুলে ধরতে পারবে না। বরং, যদি বলা হয় এ সময়ের অন্যতম সেরা বিনোদনদায়ী তারকা, তাহলেই বোধহয় বিয়োন্সে নোয়েলসের জন্য সেটা হবে যুক্তিযুক্ত। বিয়োন্সের উত্থানটা নব্বই দশকের শেষ দিকে ডেস্টিনি চাইল্ডের হাত ধরে। তবে কথাটা একটু ঘুরিয়ে বললে বলা চলে বিয়োন্সের দুর্দান্ত গায়কিতেই আগমনের পরপরই শ্রোতাহূদয়ে সাড়া ফেলে ডেস্টিনি। এরপর সময় গড়ানোর সাথে সাথেই বাড়তে থাকে দুজনের জনপ্রিয়তাও। মাত্র বছর পাঁচেকের মধ্যেই সর্বকালের জনপ্রিয়তম মহিলা ব্যান্ড দলে পরিণত হয় ডেস্টিনি। সর্বোচ্চ উত্থানের পর পতন অনিবার্য। এই ধারা মেনেই কিনা ভেঙ্গে যায় ডেস্টিনি। তবে বিয়োন্সেকে থামানো যায়নি। একের পর হিটে বিলবোর্ড টপচার্টের শীর্ষে নিজের আসনটি যেন স্থায়ী করে ফেলেন ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের হিউস্টনে জন্ম নেয়া এই তারকা। ডেস্টিনির সাথে বিচ্ছেদের পর ২০০৩ সালের শুরুতে প্রথম একক অ্যালবাম মুক্তি পায় বিয়োন্সের। ড্যাঞ্জারাসলি ইন লাভ নামের্ ঐ অ্যালবামটি শুধু গায়িকা হিসাবে বিয়োন্সেকে প্রতিষ্ঠিতই করেনি, বরং একলাফে তাকে টেনে নেয় পৃথিবীর সেরা সেলিব্রেটিদের কাতারে। পাঁচটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি অ্যালবামটি বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদেরও মন কাড়ে। সাড়া পৃথিবীতে এক কোটি দশ লাখেরও বেশী বিকোয় কপিটি। আর ক্রেজি ইন লাভ, বেবি বয় গানগুলো দখল করে বিলবোর্ডের শীর্ষস্থান। এর দু’বছর বাদে মুক্তি পায় বিয়োন্সের দ্বিতীয় একক অ্যালবাম বি’ডে। অ্যালবামের দেজা ভু, ইরেপ্লিসেবল, বিউটিফুল লায়ার গানগুলো আবারো চলে আসে বিলবোর্ডের শীর্ষে। এর কিছুদিন বাদেই নিজের অভিনয় ক্ষমতার প্রমান দিয়ে ড্রিমগার্লস সিনেমার মাধ্যমে গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পান বিয়োন্সে। এরপর অভিনয় করেন পিঙ্ক প্যান্থার, অবসেসডের মতো জনপ্রিয় সিনেমায়। অভিনয়ে ব্যস্ততা কমিয়ে অচিরেই বিয়োন্সে আবার ফেরেন তার পরিচিত আঙ্গিনায়। আর তৃতীয় অ্যালবাম আই অ্যাম... সাশা ফিয়ারসের মাধ্যমে আরো একবার ঝড় তোলেন সঙ্গীতের অস্কার বলে পরিচিত গ্র্যামিতে। ২০১০ সালে রেকর্ড ছটি পুরস্কার পান তিনি। আর কয়েক বছরের বিরতি শেষে সর্বশেষ ২০১৩ সালে বিয়োন্সে অ্যালবাম দিয়ে আবারো সঙ্গীতের পরিচিত দুনিয়ায় ফেরেন ফোর্বসের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন সেলিব্রেটির একজন বিয়োন্সে। অন্য অনেক তারকার মতো কেবল জনপ্রিয়তা আর নিজের তারকা ইমেজ রক্ষার পেছনে না ছুটে বিয়োন্সে রীতিমতো ঘোষনা দিয়েই জানিয়েছেন নারীর অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করার কথা।
