গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মা হলে...

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২০:২০
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিডফোর্ট হাসপাতালে যক্ষ্মা রোগের ওষুধ নিতে এলেন এক গর্ভবতী মা। সে কয়েক দিন শহরের বাইরে থাকবেন বলে বেশি করে ওষুধ নিলেন। ডটস কর্মী তাকে কয়েক দিনের ওষুধ দিয়ে একটি স্লিপ দিয়ে বললেন স্থানীয় ডটস বা সরকারি হাসপাতালে দেখালে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হবে। এভাবে একজন যক্ষ্মাক্রান্ত রোগী বাড়ির বাইরে গেলেও ওষুধ পায়। গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মা হলেও সে ডটস কোর্স সম্পন্ন করে সুস্থ হতে পারেন বলে জানান ব্র্যাক সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা। বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যক্ষ্মা পুরুষের চেয়ে নারীর তুলনামূলকভাবে কম হয়। তারপরও নারীর যক্ষ্মা হয় এবং তা আমাদের সমাজেও দেখা যায়। গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মা হলে তাকে আর একটু বেশি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। তারা বলেন, সরকার ও ব্র্যাক পরিচালিত ডিরেকলি অবজার্ব ট্রিটম্যান সর্ট কোর্স-ডটস অর্থাত্ সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওষুধ খাওয়ানো ডটস কর্মসূচির আওতায় এলে ছয় মাসে সম্পূর্ণ এ রোগ নিরাময় হয়। যক্ষ্মা সম্পর্কে আমাদের সমাজে নানারকম কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে। তাই গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মাকেও সহজভাবে নেয় না অনেকে। আর সমাজে নারীর রোগকে একটু কম গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। গর্ভবতী মায়ের যক্ষ্মা হলে তাকে অতি শিগগিরই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। তাদের মতে, যক্ষ্মার লক্ষণ যেমন- তিন সপ্তাহ ধরে একনাগাড়ে কাশি, জ্বর হওয়া ও দীর্ঘদিন জ্বরজ্বরভাব ও অতিরিক্ত দুর্বলবোধ করার লক্ষণ দেখা দিলে তার যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সকল রোগীকে স্থানীয় হাসপাতালে কিংবা ব্র্যাক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন ব্র্যাক হেলথ, নিউট্রেশন এন্ড পপুলেশন বিভাগের সিনিয়র কন্সালটেন্ট ডা. শায়লা ইসলাম। তিনি বলেন, দেরি হলে একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে গর্ভবতী মায়ের বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ তার গর্ভে সন্তান থাকে। এমনিতেই তার অতিরিক্ত পুষ্টি দরকার। যক্ষ্মা হলে চিকিত্সার পাশাপাশি তার মানসিক ও শারীরিক যত্ন প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ডা.শায়লা ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকা ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবিকা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ খাইয়ে আসে। আবার তাদের মানসিক শান্তির জন্য কাউন্সিলিংও করেন। তিনি বলেন, সরকারই আমাদের এ ওষুধ দেয় এবং যক্ষ্মা রোগের ওষুধ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। এ বিষয়ে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো: আশেক হোসেন বলেন, ডটস কোর্স সম্পন্ন করলে মা ও গর্ভের সন্তানের কোন ক্ষতি হয় না এই ওষুধের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তিনি আরও বলেন, এই চিকিত্সা সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।