প্রতিশোধ পূর্ণ করলো মোহামেডান

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২১:৪৮
আবাহনী গ্যলারিতে কেউ মাথায় হাত দিয়ে, কেউ কোমরে হাত রেখে বসে রইলেন। বসে থাকার ভঙ্গি যাই হোক, মনোভাব সবার একই—হতাশা। হ্যাঁ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীকে হতাশ করে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো মোহামেডান। লিগের প্রথম সাক্ষাতে ঠিক একই ব্যবধানে হারের প্রতিশোধ নিলো যেন মোহামেডান এই জয়ের ভেতর দিয়ে। লিগের দ্বিতীয় পর্বে আবাহনীর বিপক্ষে এই জয়ে মোহামেডান নিজেরা যেমন উপকৃত হয়েছে, তেমনই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবেরও লাভ হয়েছে। আবাহনী কাল ম্যাচ জিততে পারলে শেখ জামালের কাছাকাছি চলে যেতো। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধাও নিঃশ্বাস ফেলতো মোহামেডানের ঘাড়ে। কাল কোনোটাই হতে দেয়নি মোহামেডান। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ওয়াহেদ আহমেদের একমাত্র গোলেই জয় পেয়েছে মোহামেডান। ১৩ খেলায় মোহামেডানের ২৩, আবাহনীর ২৫ এবং শেখ জামালের ৩১ পয়েন্ট। মোহামেডানকে শেষ দিকে ম্যাচ জেতানোটাকে অভ্যেসে পরিণত করে ফেলা ওয়াহেদ আরও একবার মোহামেডানের নায়ক হলেন। এই স্ট্রাইকার বারিধারার বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল করে মোহামেডানকে জিতিয়েছিলেন। বিজেএমসির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন তিনি। লিগে তার পঞ্চম গোল হলো। আবাহনী শুরু থেকেই মোহামেডানের ওপর আক্রমণ করে গোলের সুযোগও বের করে নিয়েছিল। আবাহনী খেলার সবচেয়ে সহজ সুযোগটা পেলো ম্যাচের ১০ মিনিটে। মরিসনের কাছ থেকে বল পেয়ে মোহামেডানের ফাঁকা নেটে গোল করতে পারেননি পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড সুয়ারেস। তিনি পোষ্টের কাছে দাঁড়িয়ে হেড করলেন বাইরে। তার পরও আবাহনী কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। মোহামেডান যেন ভাগ্যের সুতোর উপর ভর করে নিজেকে রক্ষা করে। আর সুযোগ খোঁজে পাল্টা আক্রমণের। পাল্টা আক্রমণে একটা সুযোগেই মোহামেডান এগিয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বলটা নিয়ে চোটগ্রস্ত উইঙ্গার জাহিদের বদলে খেলতে নামা পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড হার্ডি পিন্টুর বাড়ানো বল নিয়ে ওয়াহেদ আহমেদ আবাহনীর বক্সে ঢুকেন। এগিয়ে আসেন গোলকিপার সোহেল। ওয়াহেদ তার মাথার উপর দিয়ে বল আবাহনীর জালে রাখেন। গোল করার পর আরও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মোহামেডান। এক গোল দিয়ে সেটাকে ধরে রাখার খেলা শুরু করে। মোহামেডান পর্তুগীজ কোচ রুই ক্যাপেলা বলেছেন তিনি এই কৌশলেই সাফল্য ধরে রাখতে চান। গোল করে এগিয়ে গেলে সেটাকে ধরে রাখতে ঘর সামাল দেও। কাল তো আবাহনীকে ঠেকাতে গিয়ে মোহামেডান প্লেয়াররা অযথাই বার বার মাটিতে পড়ে সময় নষ্ট করছিলেন। বিনা কারণে সময় নষ্ট করার কারণে মোহামেডানের খেলোয়াড়দেরকে ৫ বার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে। আবাহনীর ইব্রাহিম, মরিসন, সুয়োজেরা কিছুই করতে পারলেন না। যে মরিসন গত মৌসুমে মোহামেডানের জার্সি গায়ে গোলের পর গোল করেছিলেন, আবাহনীকে হারিয়েছিলেন। সেই মরিসন এবার যেন নিষ্প্রভ। প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠতে পারছেন না। মোহামেডানের বিরুদ্ধে বলের যোগান দিতে পারেননি ইব্রাহিম। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার প্রাণতোষ ঘর ঠেকিয়ে আক্রমণে যেতে পারেননি। মোহামেডানের নেতিবাচক ফুটবলের সুযোগে আবাহনী কয়েকবার মোহামেডানকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গোলটা আদায় করতে পারেনি। হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো। আজকের খেলা বিজেএমসি ও উত্তর বারিধারা ক্লাব, ৫টা ৩০।