বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো রোগীদের পাশে দাঁড়ান

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২৩:০৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিত্সকদের প্রতি বিশ্বস্ত বন্ধুর মত রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চিকিত্সকদের হাতের স্পর্শ, একটু সহানুভূতি রোগীর মনোবলকে অনেক বাড়িয়ে দেয়’। চিকিত্সকদের কাছে দেশ ও জাতির অনেক প্রত্যাশা উল্লে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু চিকিত্সা দেয়াই নয়, আপনাদের মুখের কথাও রোগীকে অনেক সুস্থ করে দেয়। তাই আপনাদের কাছে দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনস্ (বিসিপিএস)-এর ১২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং সমাবর্তন বক্তৃতা করেন বিসিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক এস.এ.এম গোলাম কিবরিয়া। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিসিপিএর-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসিপিএস-এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল¬া। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সমাবর্তন গাউন পরে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ৬ প্রবীণ চিকিত্সকের হাতে বিসিপিএস-এর অনারারী ফেলোশীপ তুলে দেন। এছাড়া ৬ তরুণ কৃতী ফেলোকে স্বর্ণপদক এবং এফসিপিএস ও এমসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীণ ২০ শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ৯২৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সনদপত্র গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ১৬ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞকে ফেলোশীপ দেয়া হয়। সনদপ্রাপ্ত চিকিত্সকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করব, চিকিত্সাসেবার মাধ্যমে আর্ত, পীড়িত ও দরিদ্র মানুষের মুখে আপনারা হাসি ফোটাবেন। দেশ ও জাতির সেবায় এবং মানবতার কল্যাণে নিজেদের উত্সর্গ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক। আপনাদের এ অর্জনের পিছনে দেশের সাধারণ মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। তাই আপনাদের দায়িত্ব সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করেছে। প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এসব ক্লিনিক থেকে ১২ কোটি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ সেবা গ্রহণ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী এখন টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামে থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সাসেবা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল হাসপাতালে ওয়েব ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২৪-ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বত্র চিকিত্সা সেবা পৌঁছে দেয়ার কথা উল্লে¬খ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ঢাকার কুর্মিটোলা ও খিলগাঁওয়ের মুগদায় ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, শ্যামলীতে টিবি হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়ায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এবং আগারগাঁও-এ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলায় ২৪টি হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। স্বাস্থ্য খাতে ১২ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে উলে¬খ করে তিনি বলেন, ৫ হাজারেরও বেশি এডহক চিকিত্সকের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। ৬ হাজার ৫৯২ জন চিকিত্সক এবং ৫ হাজার ৭৪৮ জন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৮ হাজার চিকিত্সককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তার সরকার নার্সদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণি থেকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করেছে। শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতে তার সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, একটি সুস্থ সবল জাতি গঠনে তার সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চিকিত্সকরা কাজ করে যাবেন এটাই তার প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করতে তার সরকার কাজ করে চলেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি চিকিত্সকদের সহযোগিতা কামনা করেন।