ডেসটিনির শীর্ষ ৫১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২৩:১২
মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলা দুটিতে ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ শীর্ষ ৫১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে দুদকের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার দুটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটের সঙ্গে এক ট্রাক সমপরিমাণ আলামত ও নথিপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দুদকের দায়ের করা দুই মামলার ২২ আসামির সঙ্গে আরো ২৯ জনকে যোগ করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। দুদকসূত্র জানায়, মামলার চার্জশিটে বলা হয়েছে, আসামিরা উচ্চহারে মুনাফার লোভ দেখিয়ে এমএলএম (বহুস্তরের বিপণন) ব্যবসা পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ওইসব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। দুদকসূত্র আরো জানায়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সে অর্থ থেকেই আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানী ও বেতন-ভাতার নামে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরিয়ে নেন। দুদকের অপর মামলাটি ছিল ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) সংক্রান্ত। ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ অর্থ থেকে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত্ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ অর্থ বেতন-ভাতা, সম্মানী, লভ্যাংশ, বিশেষ ভাতা বা কমিশনের আকারে আত্মসাত্ বা নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করার প্রমাণ পেয়েছে দুদকের তদন্ত দল। দুই মামলায় আগের আসামিরা হচ্ছেন : ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) এম হারুন-উর-রশিদ, পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, সাঈদ-উর-রহমান, গোফরানুল হক, মেজবাহ উদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ সানী, মিসেস ফারাহ দিবা, জমসেদ আরা চৌধুরী, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজাদ রহমান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আকবর হোসেন সুমন, সাবেক সাংসদ মিসেস শিরিন আক্তার, মো. রফিকুল ইসলাম সরকার, মো. মজিবুর রহমান, মো. সুমন আলী খান, মো. সাইদুল ইসলাম খান (রুবেল) ও মো. আবুল কালাম আজাদ। নতুন যুক্ত হওয়া ২৯ জন হলেন : বেস্ট এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম হায়দারুজ্জামান, প্রাক্তন হেড অব ফিন্যান্স কাজী ফজলুল করিম, উপদেষ্টা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রাক্তন সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা আল আমীন, ইসলাম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন ম্যানেজার সিকদার কবিরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ মো. ফিরোজ আলম, প্রোপ্রাইটার ওমর ফারুক, মো. জিয়াউল হক মোল্লা, মো. শফিউল ইসলাম, ডেসটিনি গ্রুপের কন্ট্রোলার সুনীল বরন কর্মকার, ডেসটিনি নিহাজ জুট স্পিনার্সের চেয়ারম্যান এস সহিদুজ্জামান চয়ন, ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান তপন, ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ফরিদ আকতার, ডেসটিনি গ্রুপের অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল হক, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ মিসেস জেসমিন আক্তার (মিলন), ডিএমসিএসএলের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, সম্পাদক এস এম আহসানুল কবির (বিপ্লব), সাবেক এ এইচ এম আতাউর রহমান রেজা, ডিএমসিএসএলের সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, শাহ আলম, এ কে এম সফিউল্লাহ, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, মো. আতিকুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া (মিল্টন), ডেসটিনি-২০০০-এর এক্সিকিউটিভ ও পিএইডি জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া, ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ জুবায়ের সোহেল, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান ও এস এম আহসানুল কবির। সমবায়ের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ ডেসটিনি দুর্নীতির ঘটনায় সমবায় অধিদপ্তরের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দল। গতকাল রবিবার ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে দুদক। দাখিল করা চার্জশীটে সমবায় কর্মকর্তাদের আসামি করা না হলেও কর্তব্যে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা হলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও সমবায় অধিদপ্তরের তত্কালীন যুগ্ম-নিবন্ধক প্রতুল কুমার সাহা, কাজী নজরুল ইসলাম, ঢাকার মেট্রো সমবায় অফিসার মো: আব্দুল জব্বার, ঢাকা জেলা সমবায় অফিসার কাজী মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, দোহার উপজেলা সমবায় অফিসার এইচ এম সহিদউজ্জামান, ঢাকা জেলা সমবায় অফিসার মুহাম্মাদ গালীব খান, সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম-নিবন্ধক খোন্দকার সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত নিবন্ধক মো: ইকবাল হোসেন, যুগ্ম-নিবন্ধক মোঃ মাহবুবুর রহমান, বগুড়া জেলা সমবায় অফিসার মো: ফজলুল হক এবং অতিরিক্ত নিবন্ধক মো: সাইদুজ্জামান।