পুলিশ অগ্রগতি বললেও দৃশ্যমান কিছু নেই

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২৩:২১
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ আলোচিত ৭ হত্যা মামলা তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। রবিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটাই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। এর আগে ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার। তখন তার কাছে প্রশ্ন ছিল মুখে অগ্রগতির কথা বললেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি তো দেখা যাচ্ছে না। কারণ কি? জবাবে তিনি বলেন, অনেক অগ্রগতি দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযানও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের একটি কারখানা থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে পুলিশ। সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ৭ জনের হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাই এ মামলার তদন্ত কাজও পরিকল্পনা মাফিক এগুতে হবে। সকল তথ্য সংগ্রহ করে আমরা একটি স্বস্তির জায়গায় পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। তদন্ত কাজে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অভিযানের দিন নূর হোসেনের বাড়িতে ১৬ জন ছিলো। এদের মধ্য থেকে ৫ জনের কোন সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। বাকি ১১ জনের কারো বাড়ি সেখানে না হওয়ায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন যে দুজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও নূর হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া হাইএস মাইক্রোবাসটির ব্যাপারে বিআরটিএ থেকে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের খুনীদের হুমকি দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে যে মোবাইল নম্বরটি দেয়া হয়েছে সে মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ওই মোবাইল থেকে তাদের ব্যবহূত মোবাইল ফোনে কোনো কল দেয়া হয়নি। তবুও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। বিশেষ করে মামলার বাদীদের ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব আরো বেশি। হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ জনকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে নাকি জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেয়া হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন আসলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এতো দেরিতে কেন নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে অভিযান চালাতে হয়। যখন তখন আমরা অভিযান চালাতে পারি না। এতে তদন্ত কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অপরদিকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তকালে গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের একটি কারখানা থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে পুলিশ। আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এক আত্মীয়ের কারখানা থেকে জব্দ ওই গাড়িটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনের ভাইয়ের বলে কারখানার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনের বাড়ি শিমরাইলে। শনিবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস জব্দ এবং ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। নজরুল অপহরণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন বর্তমানে পলাতক। নজরুলের লাশ পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার শিমরাইলে তার কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছিল ক্ষুব্ধ জনতা। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, শিমরাইলে জিএম গ্লাস ফ্যাক্টরি থেকে চকলেট রংয়ের টয়োটা প্রিমিও গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। নজরুলকে অপহরণে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না- জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। গাড়িটির মালিক কে, তা কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জাকারিয়া বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিএম গ্লাস ফ্যাক্টরির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, গাড়িটি নূর হোসেনের ভাই জজ মিয়ার। তিনি প্রায়ই গাড়িটি কারখানায় রেখে যেতেন। ঢাকা মেট্রো গ-২৯৮৮৬২ নম্বরের ওই গাড়িটি নূর হোসেনকে ব্যবহার করতে দেখেছেন বলে স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন। আউয়াল জানান, শামীম ওসমানের মামা শ্বশুর শামসুদ্দিন ও জালালউদ্দিন এ কারখানার মালিক। তবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযানে আটক ১৫ জনকে অবশেষে গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল রবিবার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ৬ জনকে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপরদিকে ৯ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হল- তানভীর আহম্মেদ, ইয়াসিন ওরফে সিপন, আলমগীর হোসেন, সোনা মিয়া ওরফে ইমরান, জুয়েল আহাম্মদ শাহীন ও মিজান। আর ৫৪ ধারায় যাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তারা হল- লিটন ওরফে মেহেদী হাসান, মফিজুল হক মফিজ, মো. সৌরভ, কাইয়ুম, নজরুল ইসলাম, আশরাফুল, মো. কাজল, মো. জামাল হোসেন, আরিফুজ্জামান সরকার ওরফে আরিফ। এই মামলা থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।