জামায়াতের নায়েবে আমীর ও মানবতাবিরোধী মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের গ্রামাঞ্চলে গোপনে সংগঠিত হচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে এবার কৌশল পাল্টিয়েছেন তারা। তাদের বেশিরভাগ নেতাকর্মী জেলে। জেলের বাইরে থাকা কমিটির সদস্যরা পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের নজরদারিতে থাকার কারণে খুব বেশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। বিশ্বস্ত কর্মীদের দিয়ে প্রতি গ্রামে গঠন করা হয়েছে অ্যাকশন কমিটি। গত ২ মে বীরগঞ্জে অ্যাকশন কমিটির গোপন বৈঠক হয়েছে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের অপরিচিত ও সাধারণ বিশ্বস্ত কর্মীদের উপর পুলিশের নজরদারি না থাকার কারণে তারা প্রতিটি গ্রামে জামায়াত-শিবিরকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে গ্রামে গ্রামে অ্যাকশন কমিটি গঠনে বিশ্বস্ত কর্মীরা মুখ্য ভূমিকা রাখছেন। এ কার্যক্রম মনিটরিং করছেন জামায়াতের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। প্রতিটি সংগ্রাম কমিটি গঠনে ভূমিকায় থাকবেন ২ জন। একজন অর্থদাতা এবং একজন সংগঠক। মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন না তবে জামায়াতের বিশ্বস্ত অনুসারী এমন লোকজনদের খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিলের নামে গোপন বৈঠক। এতে প্রতিবেশীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা যেমন সন্দেহ করতে পারছেন না তেমনি বিষয়টি পুলিশ ও গোয়েন্দার নজর এড়িয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নে কবিরাজ হাট হরিবাসর পূজামন্ডপে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পর ঐ এলাকায় সরেজমিনে কয়েকজন সাংবাদিক গোপনে অনুসন্ধান চালান। পাওয়া গেছে আরো চমকপ্রদ তথ্য। তবে জামায়াতের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না কেউ। ইতিমধ্যে শাসিয়ে গেছেন জামায়াত-শিবিরের লোকজন। বেশি শংকায় আছেন সংখ্যালঘুরা। এখনো অনেক সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
ভোগনগর ইউনিয়নে অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁ-ভোলানাথপুর গ্রামের জামায়াত সংগ্রাম কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে নওগাঁ জামে মসজিদের ইমাম ভোলানাথপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ ওরফে গোবরা মুন্সির পুত্র মো. রফিকুল ইসলাম রফিক (২৮) এলাকার তরুণদের বিভিন্ন সময়ে অর্থ দিয়ে জামায়াত-শিবিরের পক্ষে আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য উত্সাহ যোগাচ্ছেন। অর্থ জোগান দিচ্ছেন নওগাঁও গ্রামের মো. হকের পুত্র মো. সেরাজুল হক (৪৮)। তাদের সহযোগিতা করছেন রফিকের বড়ভাই খায়রুল ইসলাম ওরফে খায়রুল কাজী, উত্তর নওগাঁও গ্রামের মো. রহিদুল (৩৩) এবং সেরাজুলের ছোটভাই মো. আবু সাঈদ ও শরিফুল ইসলাম।
২ মে রাতে সেরাজুল হকের নেতৃত্বে তার নিজ বাসভবনে গোপন বৈঠক হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বৈঠকের বিষয়ে সেরাজুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জামায়াতের দায়িত্বশীল কেউ না। জামায়াতের কর্মীমাত্র। কেন্দ্রীয় নির্দেশে প্রতিটি গ্রামে অ্যাকশন কমিটি গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে তার অংশ হিসেবে নওগাঁও ও ভোলানাথপুর কমিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মাত্র।
নওগাঁও গ্রামে গিয়ে জানা গেল, সেরাজুল ইসলামের অপরাধ জীবনের তথ্য। সে ঢাকায় থাকে। মাঝে-মধ্যে গোপনে গ্রামে আসে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষা বিভাগে চাকুরি দেয়ার প্রতারণার অভিযোগ। চাকুরি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছে টাকা নিয়ে আত্মগোপন করে আছে। সে নিজেকে কখনও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা আবার কখনও সচিবালয়ের অফিস সহকারী বলে পরিচয় দেয় বলে গ্রামের লোকজন সূত্রে জানা যায়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলোয়ার হোসেন সাইদী ও মতিউর রহমান নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির আগামীতে নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন ধারণা ঐ এলাকার সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর। তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে জামায়াত-শিবির আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। মন্দিরে ককটেল বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে সংখ্যালঘু পরিবারগুলি।
