প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বাংলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ০৬ মে ২০১৪, ১৮:০৯
‘রৌদ্র লেখে জয়’ একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা বাংলা মো. সুজাউদ দৌলা প্রভাষক রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা রৌদ্র লেখে জয় প্রশ্ন-১। বর্গি কারা? তারা কী করেছিল? উত্তর: কবি শামসুর রাহমান রচিত ‘রৌদ্র লেখে জয়’ একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা। এ কবিতায় কবি বর্গির অন্তরালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার কথাই তুলে ধরেছেন। বর্গি হচ্ছে মারাঠা দস্যু। অনেক আগে বাংলায় বর্গিরা আক্রমণ চালাত। তারা মানুষ মারত, ধনসম্পদ লুট করে পালিয়ে যেত। কবি শামসুর রাহমান এ কবিতায় পাকিস্তানি সৈন্যদের বর্গি বলেছেন। বর্গিরা ছিল দস্যু। বাংলার ধন সম্পদের লোভে অনেক আগে বর্গিরা আক্রমণ করত। এদেশের মানুষ মেরে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, বাঙালির ধনসম্পদ নিয়ে বর্গিরা পালিয়ে যেত। এ কবিতায় কবি পাকিস্তানিদের বর্গি বলেছেন। কেননা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও বর্গিদের মতো ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। হানাদার বাহিনী মানুষের ঘরবাড়ি শহর বন্দর জ্বালিয়ে দেয়। বাঙালির ধন সম্পদ লুট করে। মূলত, মারাঠাদের মতো পাকিস্তানিরাও এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালাত। প্রশ্ন-২। হানাদারদের কথা মানুষ কেন ভুলবে না? উত্তর: হানাদারেরা রক্তপিপাসু হায়েনার মতো নিরীহ বাঙালির বুকে গুলি চালায়। যা বাংলার মানুষ কখনও ভুলতে পারবে না। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারা এদেশের নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। নির্যাতন করে মা বোন শিশু সবাইকে। তারা শহর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। মানুষের ধন সম্পদ লুট করে। হানাদারদের বর্বরতায় এদেশের লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়। তাই এদেশের মানুষ হানাদারদের কথা কখনও ভুলবে না। হানাদারদের বীভত্স অত্যাচারের কথা এদেশের মানুষ কখনো ভুলবে না। প্রশ্ন-৩। ‘কাল যেখানে আঁধার ছিল আজ সেখানে আলো’ — কথাটি ব্যাখ্যা কর। উত্তর: কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘রৌদ্র লেখে জয়’ কবিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে এদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল। তখন পাকিস্তানি শাসকরা এদেশের মানুষকে নানাভাবে শোষণ করত। অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, সর্বক্ষেত্রে এদেশের মানুষ পাকিস্তানিদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আন্দোলন দমন করতে এদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। হত্যাযজ্ঞ শুরু করে সারাদেশ জুড়ে। এদেশের মানুষও তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ। অনেক রক্তপাত ও প্রাণের বিনিময়ে বাংলার মানুষ অর্জন করে স্বাধীনতা। এদেশের আকাশ থেকে অত্যাচারীর কালো মেঘ সরিয়ে দিয়ে নীল আকাশে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন সূর্যের আলো। কবি এ বিষয়টি বোঝাতে আলোচ্য কথা বলেছেন। মূলত, আমরা দীর্ঘদিন পরাধীনতার অন্ধকারে থাকলেও এদেশের মুক্তিকামী মানুষ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আলো এনেছে। ৩০বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সি এম মিরাজুল ইসলাম প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ জলবায়ু এবং দূর্যোগ ্তপ্রশ্নোত্তর প্রশ্ন-ক: আবহাওয়া ও জলবায়ু কাকে বলে? উত্তর: আবহাওয়া: কোন স্থানের স্বল্প সময়ের অর্থাত্ ১-৭ দিনের বায়ু, তাপ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতির গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। জলবায়ু: সাধারণত কোন অঞ্চলের ৩০বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। প্রশ্ন-খ: জলবায়ু পরিবর্তনে কী কী ক্ষতি হয়? উত্তর: প্রাকৃতিক ও মানুষের নানা প্রকার কর্মকান্ডের ফলে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। যেমন- ১.গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২.অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি হচ্ছে। ৩.ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ৪.বারবার ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে। ৫. মাটির লবণাক্ততা বেড়ে কৃষিজমির ক্ষতি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের আরও বহু প্রভাব দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন-গ: খরার কারণে কী কী সমস্যা হয়? উত্তর: খরার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি নিম্নরূপ: i. খরাপীড়িত অঞ্চল তপ্ত হয়ে উঠে। ii. কুয়া, খাল, বিল শুকিয়ে যায়। iii. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। iv. অত্যাধিক গরমে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না ও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারে না। v. অনেকে জ্বর, ডায়রিয়া, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, আমাশয়সহ নানা অসুখে আক্রান্ত হয়। প্রশ্ন-ঘ: বিভিন্ন দুর্যোগে শিশুদের লেখাপড়ার কী কী সমস্যা হয়? উত্তর: বিভিন্ন দুর্যোগে শিশুদের লেখাপড়ার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। যেমন- ১. বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় হলে শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। ২. অনেকে দূর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। এতেও লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। ৩. প্রচন্ড খরার সময় অত্যধিক গরমে শিশুরা ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারে না। ৪. বন্যার পানিতে অনেক এলাকার স্কুল তলিয়ে যায়। ফলে শিশুদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। প্রশ্ন-ঙ: ভূমিকম্প মোকাবেলায় কোন কোন বিষয় মনে রাখতে হবে? উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে দ্রুত বিপুল শক্তিবিমুক্ত হওয়ায় পৃথিবী পৃষ্ঠে যে ঝাঁকুনি বা কম্পনের সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয়গুলো নিম্নরূপ: ১.পুরোপুরি শান্ত থাকতে হবে। ২.আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করা যাবে না। ৩.বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে দিতে হবে। ৪.কাঠের টেবিল বা শক্ত কোন আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ৫.বারান্দা, আলমারি, জানালা, বা ঝোলানো ছবি থেকে দূরে থাকতে হবে। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর প্রশ্ন-১: আবহাওয়া কাকে বলে? উত্তর: কোন স্থানের স্বল্প সময়ের অর্থাত্ ১-৭ দিনের বায়ু, তাপ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতির গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। প্রশ্ন-২: জলবায়ু কাকে বলে? উত্তর: সাধারণত কোন অঞ্চলের ৩০ বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে। প্রশ্ন-৩: বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ কী কী? উত্তর: বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে- কলকারখানা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, বন-জঙ্গল কমে যাওয়া, নদী ধ্বংস হওয়া ও জলাধার ভরাট করা ইত্যাদি। প্রশ্ন-৪: সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণ কী? উত্তর: বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে বরফ গলে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশ্ন-৫: দুর্যোগের ফলে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হচ্ছে? উত্তর: দুর্যোগের ফলে বন ধ্বংস হচ্ছে, কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হচ্ছে। প্রশ্ন-৬: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কী কী দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে? উত্তর: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আইলা ও সিডরের মত ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হচ্ছে। প্রশ্ন-৭: দুর্যোগকালীন সময়ে গৃহহীন মানুষ কোথায় আশ্রয় নেয়? উত্তর: দুর্যোগকালীন সময়ে গৃহহীন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। প্রশ্ন-৮: দুর্যোগকালীন সময়ে পানিবাহিত কী কী রোগ হয়? উত্তর: দুর্যোগকালীন সময়ে পানিবাহিত ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগ ইত্যাদি রোগ হয়। প্রশ্ন-৯: বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান দুর্যোগের নাম লিখ। উত্তর: বাংলাদেশের প্রধান প্রধান দুর্যোগ হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গন, খরা, ভূমিকম্প ইত্যাদি।