আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের উন্নত ভার্সন
একাদশ ও দ্বাদশ
প্রকাশ কুমার দাস
প্রভাষক, কমিপউটার শিক্ষা
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আজ ২য় অধ্যায়-কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। তোমরা প্রতিটি ট্রপিক্স মনোযোগ সহকারে পড়বে।
প্রশ্ন-১। বিট সিনক্রোনাইজেশন বলতে কী বুঝ? সিনক্রোনাইজেশনের উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা ট্রান্সমিশন হওয়ার সময় অবশ্যই দুই কম্পিউটারের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা থাকা দরকার যাতে সিগন্যাল বিটের শুরু ও শেষ বুঝতে পারে। বিটের শুরু ও শেষ বুঝতে না পারলে গ্রহিতা কম্পিউটার সে সিগন্যাল থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারে না। এ সিগন্যাল পাঠানোর সময় বিভিন্ন বিটের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ব্যবহূত পদ্ধতিকে বিট সিনক্রোনাইজেশন বলে।
সিনক্রোনাইজেশনের উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন ও
৩. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন
নিচে এদের সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হলো:
১. এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেমে প্রেরক থেকে ডেটা গ্রাহকে ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার ট্রান্সমিশন হয় তাকে এসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
এ পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রেরক যে কোনো সময় ডেটা ট্রান্সমিট করতে পারবে এবং গ্রাহক তা তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রহণ করবে। যেমন- যখন কীবোর্ডের কীতে চাপ দেওয়া হয় তখন প্রসেসর তা গ্রহণ করে এবং মনিটরে প্রদর্শিত হয়। ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য প্রেরকের কোনো প্রাথমিক স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না। একটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার পর আরেকটি ক্যারেক্টার ট্রান্সমিট হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের বিরতি সময় সমান না হয়ে ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে। যেমন( কীবোর্ড দ্বারা ব্যবহারকারীর ডেটা এন্ট্রির গতি কখনো এক রকম হয় না। প্রতিটি ক্যারেক্টারের শুরুতে একটি স্টার্ট বিট এবং শেষে একটি অথবা দুটি স্টপ বিট ট্রান্সমিট করা হয়। এ জন্য এ ধরনের ডেটা ট্রান্সমিশনকে স্টার্ট/স্টপ ট্রান্সমিশনও বলা হয়।
২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে ডেটা ট্রান্সমিশন সিস্টেমে প্রেরক থেকে ডেটাকে কোনো প্রাথমিক স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং ডেটাসমূহকে ব্লক আকারে ভাগ করে প্রতি বারে একটি করে ব্লক ট্রান্সমিট করা হয় তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
প্রাথমিক স্টোরেজে সংরক্ষিত ডেটাকে ছোট ছোট ব্লক আকারে ভাগ করা হয়। প্রতি ব্লকে কম পক্ষে 80 থেকে 132 টি ক্যারেক্টার থাকে। প্রতি দুটি ব্লকের মাঝখানের টাইম ইন্টারভেল বা বিরতির যেমন( কয়েক মিনিট বা মাইক্রো বা ন্যানো সেকেন্ড) একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকে। প্রতি ব্লক ডেটার শুরুতে একটি হেডার ইনফরমেশন ফাইল ও শেষে একটি টেইলার ইনফরমেশন সিগন্যাল আকারে পাঠানো হয়।
কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডেটা কমিউনিকেশনের সময় এর ব্যবহার দেখা যায়। এক স্থান থেকে দূরবর্তী অন্য কোনো স্থানে ডেটা স্থানান্তরে এটি ব্যবহূত হয়। একই সাথে অনেকগুলো কম্পিউটারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার লক্ষণীয়।
৩. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন: আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের উন্নত ভার্সন। এতে প্রেরক ও প্রাপক স্টেশনের মধ্যে ডেটা ট্রান্সমিশন ডিলে সর্বনিম্ন রাখা হয়। রিয়েল টাইম অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সফারের জন্য এ পদ্ধতি বহুলভাবে ব্যবহূত হয়।
