জমি থেকে বোরো ধান উঠতে আরো একমাস বাকি; কিন্তু ঘরে খাবার মতো কোন চাল নাই। তাই বলে নতুন ধান না ওঠা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে! দুশ্চিন্তা নেই। আপনার হাতের কাছে রয়েছে ধান ব্যাংক। আপনার প্রয়োজনীয় ধান ঋণ হিসেবে নিতে পারেন এই ব্যাংক থেকে। ঘরে ধান উঠলে সেই ঋণ ধান দিয়ে আবার শোধ করে দিতে পারবেন। তবে সুদ হিসেবে কয়েক কেজি বেশি ধান ব্যাংকে জমা দিতে হবে। হ্যাঁ, আপনার প্রয়োজনে অভাব ও দুর্যোগকালীন সময়ে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে পঞ্চগড়ে কমিউনিটি ধান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে উত্তরের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ।
জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলায় ইতিমধ্যে এ ধরনের ৫টি কমিউনিটি ধান ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। এ বছর প্রতিষ্ঠিত হবে আরো দুইটি। সংস্থাটি সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের আওতাধীন কোন এলাকার ২৫-৩০ জন উপকারভোগীকে ধান ব্যাংকের জন্য নির্বাচন করে। উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রতিবন্ধী সদস্যদের প্রাধান্য দেয়া হয়। ধান ব্যাংক পরিচালনার জন্য ২টি কমিটি থাকে। একটি ধান ব্যাংক পরিচালনা কমিটি এবং অপরটি উপদেষ্টা কমিটি। উপদেষ্টা কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ৩-৫ জন। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন চেয়ারম্যান হন উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি। আর ধান ব্যাংকের উপকারভোগীদের সমন্বয়ে ধান ব্যাংক পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। যার সদস্য সংখ্যা ৫-৭ জন। ব্যাংক থেকে অভাব অথবা দুর্যোগকালীন সময়ে ধার হিসাবে একজন সদস্যকে সর্বোচ্চ ৫০-৮০ কেজি ধান প্রদান করা হয়। পরবর্তী ফসল উঠার এক মাসের মধ্যে একটি তারিখ সুনির্দিষ্ট করে অতিরিক্ত ৫ কেজি ধানসহ প্রদানকৃত ধান ব্যাংকে ফেরত আনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিচালনা কমিটি। আদায়কৃত ধানের গুণগতমান ঠিক আছে কি না তা-ও নিশ্চিত করে কমিটি।
জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি সমাজকল্যাণ ফেডারেশন পরিচালিত কমিউনিটি ধান ব্যাংকের সভাপতি পারুল রানী জানান, ‘অভাবের সময় আমাদের গ্রামের পাড়ইদের (বড়লোক) কাছে ধান নিতে হতো; কিন্তু ধান ওঠার পর তার দ্বিগুণ ধান পরিশোধ করতে হতো। এখন আমরা আর পাড়ইদের কাছে যাই না। ব্যাংক থেকে প্রয়োজনের সময় আমরা ধান ধার নিতে পারি। ধান উঠলে মাত্র ৫-৭ কেজি ধান বেশি দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারি।’ তিনি জানান, ‘২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ৩০ মণ ধান নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন আমাদের মজুদ ৪২ মণ ধান। এই মৌসুমে আমরা এই ৪২ মণ ধান ৪২ জন সদস্যকে দিয়েছি। সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা এবার ১০ কেজি করে বেশি ধান দেবে। এতে করে আগামী আমন মৌসুমের আগে আরো ২০ জন সদস্য ধান নিতে পারবে। এভাবে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমাদের সদস্য ১শ ছাড়িয়ে যাবে।’
ফেডারেশনের কৃষক ফোরামের সভাপতি ইউসুফ আলী জানান, ধান ব্যাংকের চাহিদা এত দ্রুত বাড়ছে যে, আমাদের ইউনিয়নে আরো ধান ব্যাংক স্থাপন করতে হবে।
আরডিআরএস বাংলাদেশ পঞ্চগড় শাখার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, ধান ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আমরা প্রতিটি ধান ব্যাংকের জন্য ৩০ মণ ধান, ধান মাপার জন্য দাঁড়ি-পাল্লা ও ধান রাখার জন্য ডুলি বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। নিয়ম মেনে এই ব্যাংকে সদস্য হয়েই ঋণ হিসেবে ধান নেয়া যায়। কমিউনিটিতে ধান ব্যাংকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।
