ভারতে চলতি লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন সময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন, কংগ্রেস মুসলিমদের নিয়ে ভোটব্যাংক রাজনীতি করছে। অথচ বিজেপি’র নির্বাচনী ইশতেহার এবং তার ও দলের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোদী নিজেই ভোটব্যাংক রাজনীতি করে চলেছেন। তার মতে, ভারতে যেসব হিন্দু যাচ্ছে তারা ‘শরণার্থী’। আর মুসলিমরা ‘অনুপ্রবেশকারী’!
বিজেপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে এক জায়গায় বলা হয়েছে, ভারত এক দেশ, এক ব্যক্তি এবং এক জাতির দেশ। আবার বলা হয়েছে ভারতে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদে সবাই সমান। ইশতেহারের শেষাংশে বলা হয়েছে, কোনো দেশে হয়রানির কারনে যদি হিন্দুরা ভারতে প্রবেশ করে তাহলে তাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাত্ দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ৭ এপ্রিল নির্বাচন শুরুর দিনে প্রকাশিত ইশতেহারে বলা হয়েছে, ভারত হিন্দুদের ‘স্বাভাবিক’ বাসস্থান। মোদী আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে এধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। গত ৪ মে পশ্চিবঙ্গের বাঙ্কুরায় তিনি বাংলাদেশি হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তির রেখা টানেন। তিনি বাংলাদেশি হিন্দুদের সম্পর্কে বলেন, যেসব হিন্দু বাংলাদেশ থেকে এসেছে তারা ‘শরণার্থী’ হিসেবে দেশে বসবাস করবে। কারন তারা ভারতের সন্তান, তারা ভারতকে ভালবাসে, তারা দুর্গাষ্টমী উদযাপন করে। তারা বাংলায় কথা বলে। তাদের ভারতের সন্তান হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী। মোদী মুসলিমদের সম্পর্কে বলেন, যারা ‘ভোটব্যাংক রাজনীতির’ জন্য ভারতে এসেছে তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি ‘শরণার্থী’, ‘অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘ভোটব্যাংক’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন। তবে এইসব শব্দ সম্পূর্ণরুপে সামপ্রদায়িক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
মোদীর সহযোগী অমিত শাহও বলেছেন, আজমগড় এবং উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল। তিনি মায়াবতীর সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে মুসলিমদের নিয়ে ‘ভোটব্যাংক’ রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন। মোদী এটা খুব ভাল করে জানেন, তিনি যদি সরাসরি বলেন, ভারত কেবলই হিন্দুদের জন্য তাহলে কেবল নির্বাচন কমিশন কর্তৃকই তিনি সমস্যার সম্মুখীন হবেন না, বরং ভোটাররা তাকে ধিক্কার জানাতে পারে। তিনি প্রত্যক্ষভাবে সামপ্রদায়িকতাকে সমর্থন না করলেও পরোক্ষভাবে করছেন। ১৯৫১ সালের ‘রিফিউজি কনভেনশন, অনুযায়ী, কেউ যদি নিজ দেশে অত্যাচারের কারনে ভারতে এসে আশ্রয় নেয় তাহলে সে শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে।
