সাতক্ষীরার পল্লীতে শিশুকন্যাকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা

আপডেট : ০৬ মে ২০১৪, ২৩:২০
সাতক্ষীরায় দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যার পর একই রশিতে ঝুলে পরে মা নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর একসরা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আত্মহননকারী গৃহবধূর নাম পারভীন সুলতানা (২৪), সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উত্তর একসরা গ্রামের বিল্লাল হোসেন গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী। শিশুটির নাম রুপা খাতুন। আনুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মধ্যম একসরা গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন জানান, আশাশুনি উপজেলার উত্তর একসরা গ্রামের দীন আলী গাজীর ছেলে বিল্লাল হোসেন গাজী প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় খুলনার দাকোপ উপজেলার গুনিরিয়া গ্রামের পারভীন সুলতানাকে চার বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সাতক্ষীরা শহরের গড়েরকান্দা এলাকায় নিজের বাড়িতে বসবাস শুরু করে। বছরখানেক পর প্রথম স্ত্রী জহিরুন নেছার সঙ্গে পারভীনের বনিবনা না হওয়ায় বিল্লাল তাকে গ্রামের বাড়ি উত্তর একসরায় বাবা-মা’র কাছে রেখে আসে। বিল্লাল নিয়মিত পারভীনের কাছ আসা-যাওয়া করতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে থেকে পারভীন সাতক্ষীরা শহরে তার নামে আলাদা একটি বাড়ি করে দেয়ার জন্য স্বামী বিল্লালের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিল্লাল তাকে জানায়, বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তাকে গ্রামে বসবাস করতে হবে। স্বামীর এই আশ্বাসে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেনি সে। স্বামীর উপর ক্ষুব্ধ পারভীন সোমবার রাতে ঘরের কড়ির সাথে রশি বেঁধে প্রথমে তার দেড় বছরের মেয়ে রুপাকে ঝুলিয়ে দিয়ে পরে একই রশিতে নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। আশাশুনি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আশাশুনি থানার ওসি আহসান হাবিব ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূ আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।