পাঠকদের জন্য আনন্দ বিনোদনের নতুন বিভাগ ‘তারার সাথে একদিন’। এই বিভাগে তারকার
সঙ্গে কাটানো কিছুটা সময় কীভাবে কেটেছে এবং তারকা কী কী কথা শেয়ার করেছেন তাই তুলে
ধরার চেষ্টা করা হবে। নতুন এই বিভাগে প্রথম দিনেই হাজির হয়েছেন লাক্সতারকা
মেহ্জাবীন চৌধুরী। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি
দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেলের দিকে দিনের যাত্রা শুরু। সেই সময়েই পূর্বনির্ধারিত কথা অনুযায়ী মেহ্জাবীনের নতুন নাটক ‘গোল্লাছুট’-এর শুটিংয়ে পৌঁছাই আমি এবং আলোকচিত্রশিল্পী। মেহ্জাবীন তখন দীন মোহাম্মদ মন্টুর নির্দেশনায় অভিনেতা নিশোর সঙ্গে রিকশায় চড়ে উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরে শিশির শুটিং হাউজের সামনে শুটিং করছিলেন। কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পর দেখা হলো মেহ্জাবীনের সাথে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শুধু এতটুকু বললেন, ‘আপু, বস, শটটা দিয়েই আসছি।’ ঠিক পাঁচ মিনিট পর মেহ্জাবীন এলেন। আমি বললাম, ‘কেমন হলো বাবাকে নিয়ে আপনার এবারের জন্মদিন?’ জবাবে মেহজাবীন বলেন, ‘নাহ্, বাবা দেশের বাইরে থেকে জন্মদিনের আগেরদিন রাতে আসতেই পারলেন না। আর ওই রাতেই আমার ছোট ভাই খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে নিয়েই হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। ব্যস জন্মদিনের শুরুটা ভালোই হলো না। অনেক রাত হয়ে যায় ঘুমাতে। পরের দিনটা মোটামুটি কেটেছে।’ ‘অভিনেতা’ নাটকের পর খুব সম্ভবত এটাই আরেকটা নাটক আপনার? জবাবে মেহজাবীনের, ‘হুম, তুমি তো জানোই আপু, আমি খুব কম নাটকে কাজ করি। বেছে বেছে বললে একটু বাড়িয়েই বলা হবে। আমি নিজেকে, নিজের পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি নাটকে কাজ করি। অভিনয় করেই যে আমাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তেমনটা নয়।’ আগে তো বাংলায় কথা বলতে আপনার কষ্ট হতো, এখন কেমন? এখন আসলে চর্চা করতে করতে অভ্যস্ত আমি। আমার কোআর্টিস্ট যারা তারা আমাকে বাংলা ভাষা আত্মস্থ করতে খুবই সহযোগিতা করেছেন। আমি প্রত্যেকের প্রতিই কৃতজ্ঞ।’ কথা বলার মাঝে নিশো এসে কিছু কথার সংযুক্তি ঘটালেন। নিশো বললেন, ‘মে্হজাবীন আগের চেয়ে অভিনয়ে সত্যিই নিজেকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। ভবিষ্যতে সে আরও অনেক ভালো করবে।’ আবার দু’জনে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। পুরো ইউনিট জুড়ে তখন যেন একটু বেশিই তাড়াহুড়া। কারণ ডে লাইট চলে যাচ্ছিল। বেশ কয়েকটি দৃশ্য ধারণ করার কাজ তখনও বাকি। তবে পরিচালক দীন মোহাম্মদ মন্টু জানান, ‘আপু, আপনি মেহ্জাবীনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, কারণ তার কাজ আরেকটু পরে।’ মেহ্জাবীনের একটি বিষয় খুব প্রশংসনীয় যে সাধারণত তিনি খুব বেশিদিন আগে কোনো নাটকের শুটিংয়ের জন্য সিডিউল দেন না। কারণ হিসেবে মেহ্জাবীন বলেন, ‘আপু, সত্যি বলতে কী মানুষের জীবনে কখন কী হয় সেটা বলা যায় না। তাই আগে আগে সিডিউল দিয়ে রাখতে চাই না। তাতে পরিচালকদেরও চাপ যেমন কম থাকে আমিও একটু দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকি।’ কিন্তু তারপরও নাকি মেহ্জাবীনের কাছে অনবরত নাটকের স্ক্রিপ্ট, ফিল্মে কাজ করার অফার প্রতিনিয়তই যাচ্ছে। বিনয়ের সঙ্গে তা মোকাবেলা করছেন তিনি। অনেকটা সময় গল্পে গল্পে আড্ডায় শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে কেটেছে মেহ্জাবীনের সাথে। তবে কী যেন এক অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে এই মেয়েটির মুখাবয়বে। হয়তো অন্য কোনোদিন তা জানার চেষ্টা থাকবে। মেহ্জাবীনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তখন আমি অন্য গন্তব্যের খোঁজে।
