গেল এপ্রিল মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ হয়েছে। মার্চে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে এপ্রিলে খাদ্য পণ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতির পরিমাণ হয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে এক মাসের ব্যবধানে শহর এলাকার তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় মুল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।
গতকাল আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিবিএস মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল। ফলে দেশের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, খাদ্য এবং খাদ্য-বহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী লক্ষ্যকরা যাচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে সাত শতাংশে মূল্যস্ফীতি বেধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, অর্থ বছরের শেষ নাগাদ ক্রমান্বয়ে মূল্যস্ফীতি বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এপ্রিলে খাদ্য-বহির্ভূত খাতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা গত মার্চে ছিল ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থ বছরের দশ মাসের হিসাবে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ মাসের তুলনায় চাল, ডাল, আটা, শাক-সবজি, ফল, মসলা, তেল, দুধ ও তামাক জাতীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির হার মার্চের তুলনায় কম। এ সময় পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী, চিকিত্সা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির হার আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কম।
গ্রামীণ পর্যায়ে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ১৯ ভাগ, যা মার্চ মাসে ছিলো ৭ দশমিক ২১ ভাগ। অন্যদিকে শহর পর্যায়ে এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৯৬ ভাগ যা মার্চে ছিলো ৭ দশমিক ৯৮ ভাগ।
