বাংলাদেশ ব্যাংক আরো তথ্য চায় ইসির কাছে

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ২২:৫৩
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডিজিটাল ভোটার তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেস) থেকে আরো ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী তারা ছয় ধরনের তথ্য পাচ্ছে। তবে নতুন করে আরো তিন ধরনের তথ্য পেতে চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তিন তথ্যের মধ্যে রয়েছে স্বামী/স্ত্রীর নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং পেশা। এদিকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক নাগরিকের সাত ধরনের তথ্য ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশের প্রস্তাব করেছেন এব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, কমিশন সভায় এ দুটি বিষয় এজেন্ডাভুক্ত রয়েছে। আইনী বিষয়ে খতিয়ে দেখেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। তবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার বিষয়টি কমিশন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করবে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, আজ কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইসির সঙ্গে বিদ্যমান স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ প্রদান সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ডাটাবেস থেকে নাগরিকের সীমিত তথ্য জানতে পারছে। যার মধ্যে রয়েছে নাম (বাংলা ও ইংরেজি), পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ ও ছবি। যদিও নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে বিশ্বব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। এ কারণেই নাগরিকদের জন্য স্মার্ট কার্ড তৈরি প্রকল্প (আইডিয়া প্রজেক্টে) বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড় বন্ধ রাখে। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ও বিধিমালায় কিছু পরিবর্তনও এনে আইডিয়া প্রজেক্টকে আবারো গতিশীল করার চেষ্টা করছে ইসি। এর আগে কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দুজন শিক্ষকের সহায়তায় ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০’ সংশোধন ও এ আইনের আওতায় বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করলেও বিশ্বব্যাংক তা গ্রহণে অসম্মতি জানায়। এদিকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক নাগরিকের বেশকিছু ব্যক্তিগত তথ্য ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশের প্রস্তাব করেছেন। ওই প্রস্তাবে নাগরিকের নাম, পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, অস্থায়ী ঠিকানা, জাতীয় পরিচিতি নম্বর ও ভোটার নম্বর বিনামূল্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা বলেছেন তিনি। আবদুল মোবারক তার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন যে, কারো আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে তাকে থানায় জিডি করে কপিসহ আবেদন করতে হয়। কিন্তু তার নম্বর ব্যক্তিগতভাবে স্মরণ না থাকলে বা রেকর্ড করা না হলে নম্বরবিহীন আবেদন থানা বা জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) গ্রহণ করে না। এছাড়াও নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ভোটার স্লিপে নাম ও নম্বর লিখে তা ভোটারের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু বর্তমান কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের সাধারণ ও উপ-নির্বাচনে প্রার্থীরা এটা করেননি। প্রার্থীদের এই কাজে বাধ্য করারও কোন সুযোগ নেই। এছাড়াও বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্কুল-কলেজে ভর্তির দরখাস্ত এবং চাকরির দরখাস্ত, ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য লাইসেন্সের দরখাস্তে জাতীয় পরিচিতি নম্বর প্রয়োজন হয়। এসব বিবেচনায় সাত ধরনের তথ্য শুধু পাঠযোগ্য করে প্রকাশ করা যেতে পারে। সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, ইসি সচিবালয় কর্মকর্তারা এই প্রস্তাবে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লংঘন এবং সর্বশেষ সংশোধিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি-না তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশনকে।