দেশে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। সারাদেশে এ রোগে আক্রান্ত সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিশু। দেশে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ এ রোগের জীবাণু বহন করছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৪ দশমিক ১ ভাগ মানুষ ‘বিটা থ্যালাসেমিয়া’র বাহক। এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি তালিকা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে শতকরা ৪ জন হিমোগ্লোবিন-ই এর বাহক। এমনি পরিস্থিতিতে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস।
আজ ৮ মে, বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘অর্থনৈতিক মন্দায় স্বাস্থ্য সংরক্ষণে সমন্বিত শক্তিতে ব্রতী হউন’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বংশগত এই রোগ থেকে মুক্তি দিতে, কেবল সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র উপায়।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্টা ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, শিশুদের কান্না আমরা আর শুনতে চাই না। আমাদের আন্দোলন শুরু করতে হবে। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধেই মুক্তি। সচেতনতাই পারে এই রোগ থেকে মুক্ত করতে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, যারা হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডার বাহক তারা যদি অন্য কোন হিমোগ্লোবিন ডিসঅর্ডার বহনকারীরা সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে সন্তানদের রোগাক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে। কিছু কিছু দেশে বিয়ের আগেই উভয়েরই রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া বাহক সনাক্ত করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহকের সংখ্যা দেশে দিন দিন বাড়ছে। সচেতনতাই পারে কেবল এই রোগ থেকে মুক্ত করতে। এই রোগীদের চিকিত্সায় সরকারি বরাদ্দ প্রদান করার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণায় তার টিভি চ্যানেল কাজ করবে এবং একটি চলচ্চিত্র করা হবে যেখানে তিনি নিজে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ওমর গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান। আরো বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বখত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা এবং সমিতির কাউন্সিলার ও ডায়েটেসিয়ান অবন্তী রায় প্রমুখ।
