হোয়াইট হাউসে এক ইন্টার্নের সঙ্গে পরকীয়া কেলেঙ্কারির জন্য ইমপিচমেন্টের (অভিশংসন) মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। সেই সুপরিচিত ইন্টার্ন মনিকা লিউনাস্কি দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙলেন। এক সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের জন্য গণমাধ্যমের শিরোনাম আর মানুষের মুখরোচক গল্পের নায়িকায় পরিণত হওয়া সেই লিউনাস্কি এখন খুবই অনুতপ্ত। হোয়াইট হাউসে বিল ক্লিনটন তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে বললেও তার দাবি দুই জনের সম্মতিতেই ঐ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ও তার জীবন নিয়ে একটি লেখার অংশবিশেষে এ কথা বলেছেন। ফ্যাশন সাময়িকীটির আগামী সংখ্যায় লেখাটি প্রকাশিত হবে।
মনিকা লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের ঐ ঘটনা ও মানুষের অপমান তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। সেই সময়কার প্রতিটি দিন এখনো তার স্মরণে রয়েছে। কারণ ঐ গোপন প্রেমের কারণে তার নাম পপ সংস্কৃতিসহ সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছিলো। মনিকা বলেন, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ও আমার মধ্যে যা হয়েছিলো তার জন্য আমি অনুতপ্ত। ১৯৯৮ সালে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর আমাকে অনেক অপমান ও দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয়েছে। প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করার জন্য বলির পাঠা হতে হয়েছে। বলা যায়, এ কারণে আমি এক ব্রান্ডে পরিণত হয়েছিলাম।
ক্লিনটনের প্রশাসন ছাড়ার পর তাকে অল্পদিনের জন্য হাতব্যাগের ডিজাইনার ও ইউএস রিয়েলিটি ডেটিং শো’র উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতে হয়েছে। এরপর তিনি স্নাতক ডিগ্রির জন্য লন্ডনে চলে যান। কিন্তু অতীতের কেলেঙ্কারির জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিলো। অতীতের এই ঘটনাকে অর্থপূর্ণ করার জন্যই দীর্ঘ নীরবতা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মনিকা। তিনি বলেন, আমার অতীত এবং অন্যান্য মানুষের ভবিষ্যতে উঁকিঝুঁকি মারা বন্ধ করার সময় হয়েছে। ভিন্নভাবে আমার কাহিনী শেষ করার জন্য আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এখন মনিকার লক্ষ্য হলো, অনলাইনে অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়া মানুষের জন্য কাজ করা। এক বিষয়ে পাবলিক ফোরামে জোরালোভাবে কথা বলতে চান তিনি।
এই গোপন প্রেমের কারণে বিল ক্লিনটন পদ হারাতে বসেছিলেন। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে ‘ইমপিচ’ করেছিল। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ক্লিনটনকে নিরপরাধ ঘোষণা করার পর ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিলেন।
আগামী ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বিল ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। লিউনাস্কি নীরবতা ভাঙায় মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনা নতুন করে সামনে উঠে এসেছে। কারণ রিপাবলিকানরা হিলারির বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক ইস্যুকে কাজে লাগাতে চায়।
