গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের বিশ্বনাথ ও টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এক যুবক। এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহূত বা নিখোঁজ সেনা সদস্য, স্কুলছাত্রী ও ওষুধ ব্যবসায়ীসহ কমপক্ষে চারজন উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বনাথ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরের নতুনবাজারের ঠাকুর মার্কেটের ‘ফয়জুল খান ফার্নিচার মার্টের’ মালিক ফয়জুল খানকে মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের মৃত মহি খানের পুত্র। এ ঘটনায় অপহূত ফয়জুল খানের ছেলে জয়নুল খান বাদী হয়ে গতকাল বুধবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অপহরণকারীরা ফয়জুল খানের মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ীসহ সবার মধ্যে আতংক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জয়নুল খান জানান, তার বাবা মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় উপজেলার বাগিছাবাজারে যাচ্ছেন বলে দোকান থেকে বের হন। কিন্তু সন্ধ্যার পরও দোকানে না আসায় রাত ৮টার দিকে তিনি বাবার মোবাইলে ফোন করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার বাবার মোবাইল নম্বর (০১৭১৮৩১৬৮৯২) থেকে তার খালার মোবাইলে একটি কল আসে। এ সময় ‘অপহরণকারীরা’ বাবার মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করে। ফয়জুল খানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না রাখলে তাকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা।
জিডির সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার এসআই ফজলে রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে যা করার আছে, তার সবই করবে পুলিশ।
সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কচুয়া বাজার থেকে আ. বারী মিঞা (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে অপহূতের স্ত্রী মাজেদা বেগম গতকাল বুধবার সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পারিবারিকসূত্র জানায়, উপজেলার ঘোনারচালা গ্রামের মৃত আলফাজ উদ্দিনের ছেলে ঘোনারচালা বাজারের সোহাগ এন্টারপ্রাইজের মালিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আ. বারী মিঞা রাত সাড়ে সাতটার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ভোট প্রার্থনার জন্য পাশের কচুয়া বাজারে যান। এর পর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। ওই বাজারের বণিক সমিতির নির্বাচনে তিনি কোষাধ্যক্ষ পদে প্রার্থী ছিলেন।
অপহূতের স্ত্রী মাজেদা বেগম বলেন, আমার স্বামীর কোন শত্রু ছিল না। হঠাত্ গত মঙ্গলবার রাত ৮টার পর থেকে তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাই এবং তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। তার ধারণা, তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, পুলিশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বারী মিঞাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের ফেয়ার ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে ম্যানেজার এসএম জাহিদুল ইসলাম সজিবকে সোমবার রাতে কে বা কারা কর্মস্থল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার সন্ধান না পেয়ে বাবা এসএম জোয়াহিরুল ইসলাম থানায় জিডি করেছেন। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, এখনও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয়কে টার্গেট করে তদন্ত চলছে।
এদিকে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ হন সেনা সদস্য শামীম। প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলা শহর থেকে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণের ১৩ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় তিনি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার নাম আনোয়ারুল ইসলাম আলম (৩২), বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্নাপাড়া গ্রামে। ঠাঁটাপড়া বাজারে তার একটি ফার্মেসী রয়েছে। কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।
আলমকে গত মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে জেলা শহরের বড়বাজার স্বর্ণপট্টি এলাকা থেকে সিএনজিতে তুলে নেয়া হয়। রাত ১১টার দিকে সতাল এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন এক সড়কে বৃষ্টির মধ্যে অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার এক আত্মীয় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। জ্ঞান ফিরে এলে তিনি জানান, অপহরণকারীরা তরল জাতীয় কিছু তার মুখে ঢেলে দেয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করে। এরপর আর কিছু তার মনে নেই। তিনি দুর্বৃত্তদের কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানান। তবে তার আত্মীয়-স্বজনসূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মীর মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সুস্থ হওয়ার পর তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নিখোঁজের ৫ দিন পর গত বুধবার বিকাল ৩টার দিকে জেলা শহরের ত্রিমোহনী এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে স্কুলছাত্র আনোয়ারুল ইসলাম রানাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের পুত্র ও স্থানীয় দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। রানা গত শনিবার বিদ্যালয় থেকে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। উলিপুর থানার ওসি জমির উদ্দিন জানান, রানা সম্ভবত বাড়ির লোকজনের সাথে অভিমান করে অন্তর্ধান হয়েছিল। তারপরও এটা অপহরণ কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
বড়াইগ্রাম থেকে অপহূত স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পূর্ণকলস থেকে অপহূত স্কুলছাত্রী রাত্রিকে (১১) অপহরণের দুদিন পর বুধবার ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ইপি খাতুনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত রাত্রি ঐ গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে এবং রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার সকালে পূর্ণ কলস গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে মুলাডুলি দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ইপি (১৭) স্কুলে যাওয়ার জন্য রাত্রিকে ডেকে নিয়ে গেলে সে আর ফিরে আসেনি। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রাত্রির বাবা ইপিকে অভিযুক্ত করে বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইপির বাবা ইদ্রিস আলীকে আটক করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই কৃষ্ণ মোহন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বুধবার ভোরে ঢাকার উত্তরার বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে রাত্রিকে উদ্ধার করে।
রংপুরে বিএনপি নেতা নিখোঁজ
রংপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রিনা বেগমের স্বামী মমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি নগরীর পায়রা চত্বরে স্ত্রীর পোষ্টার নিতে এসে নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে রিনা বেগম রাতেই কোতয়ালি থানায় জিডি করেন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রিনা বেগম জানান, সারাদেশে যেভাবে মানুষ গুম হচ্ছে, তার স্বামীকেও সরকার কিংবা তাদের প্রতিপক্ষরা গুম করতে পারে। কোতয়ালি থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী জানান, বিষয়টি রহস্যজনক। জিডির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জে ১৯ দিন ধরে নিখোঁজ এক কিশোর
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় সাখাওয়াত হোসেন নামে এক কিশোর ১৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় দুটি জিডি করা হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকালে স্থানীয় সাংবাদিক রাকিব হোসেন বলেন, তার ভাতিজা সাখাওয়াত হোসেন কালীগঞ্জ সামসুল আলম মার্কেটের একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরীতে কাজ করতো। গত ১৮ এপ্রিল সে ফ্যাক্টরীতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি। তাকে বিভিন্ন এলাকা ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় খোঁজা-খুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে কারখানার মালিক আবুল কাসেম ঢালী বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করেন। থানার দারোগা মনির হোসেন জানান, নিখোঁজ সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
