নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে র্যাবের তিন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসর দেয়া হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া র্যাব ও গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে এ প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার র্যাব সদর দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, কাউন্সিলর নজরুলসহ সাতজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে র্যাবসহ যে কেউ জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা তাদের দায়িত্ব। র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০ বছরে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে কিংবা যে কোন অপরাধে জড়িত থাকায় ১৯৪৯ জন র্যাব সদস্যকে জেল-জরিমানা ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। র্যাব একটি এলিট ফোর্স এবং নিয়ম-কানুন মেনে চলার ক্ষেত্রে হেরফের হলে ছাড় দেয়া হয় না। সাতটি হত্যাকাণ্ডে র্যাবের কোন সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে কিন্তু এটা পুঁজি করে কোন কোন মহল র্যাবের পুরো প্রতিষ্ঠানকে জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে র্যাবের ভূমিকা সম্পর্কে দেশবাসীর কাছে নতুন করে বলার কিছু নেই। কোন কোন বাহিনীতে ব্যাংকের ১ কোটি টাকাসহ শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেফতার, অফিসের ছাদে নিয়ে সোর্স হত্যাকাণ্ডসহ নিত্য দিন অনেক অভিযোগ আসছে। ঐ সব অভিযুক্ত কর্মকর্তা সহজে পার পেয়ে যান। র্যাবে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ কারণে অভিযোগ আসার পর সামরিক আইন অনুযায়ী তাদেরকে অবসরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তদন্তে যদি হত্যাকাণ্ড প্রমাণ হয়, তাহলে প্রচলিত আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর আইনানুযায়ী যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। এটা নিয়ে এত হৈ চৈ করার নেপথ্যে কারণ সম্পর্কে কারো অজানা নেই। এতে পুলকিত হওয়ার কারণ নেই। র্যাব দায়িত্ব পালনে একটু নিরব থাকলে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের তত্পরতা বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি দেশবাসী দেখতে পাবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদদাতারা র্যাব বিষয় নিয়ে এতো হৈ চৈ করে আসছে বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, র্যাব সব সময় নিয়ম-কানুন মেনে চলে আসছে। সব পেশায় কিংবা বাহিনীতে কিছু কিছু দুষ্টু প্রকৃতির লোক থাকে। এদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। সাতটি হত্যাকাণ্ডে র্যাবের তিন সদস্য কিংবা আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করে এ বাহিনী থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
