কলকাতা প্রশাসনকে চিঠি নির্বাচন কমিশনের

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ২৩:২০
ভারতে কংগ্রেস দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে জনসভার জন্য পার্ক সার্কাস ময়দান কেন দেওয়া হল না, তা জানতে চেয়ে কলকাতা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে মঙ্গলবার উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার প্রশাসনের কাছে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন। খবর আনন্দবাজারের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চিঠির জবাবে কলকাতা প্রশাসন অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, গত মার্চে কমিশনের পাঠানো এক নির্দেশের কারণেই তাঁরা পার্ক সার্কাস ময়দান কোনও রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কমিশন সূত্রে আর কোনও মন্তব্য করতে চাওয়া হয়নি। অথচ কাঁকুড়গাছির এপিসি পার্কে গতকাল বুধবার বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর সভার অনুমতি দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পৌরসভা। কিন্তু পার্ক সার্কাসে রাহুলের সভার জন্য অনুমতি চেয়ে উত্তর কলকাতার কংগ্রেস প্রার্থী সোমেন মিত্র সোমবার পৌরসভার কাছে যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভি এস সম্পতের কাছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব। পৌরসভা কমিশনারকে শোকজ করার জন্য লিখিত ভাবে দাবি জানান কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। পৌরসভার এক পদস্থ অফিসারের বক্তব্য, গত ২৫ মার্চ পার্ক সার্কাস ময়দানে রাহুলের সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তখন বলা হয়েছিল, ওই ময়দানের চার পার্কে স্কুল, কলেজ ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। তার পরই কমিশন নির্দেশ দেয়, ভবিষ্যতে ভোটের প্রচারের জন্য ওই পার্ক কোনও রাজনৈতিক দলকে যেন না দেওয়া হয়। কমিশনের সেই নির্দেশের কথাই চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ওই অফিসার জানান। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে সভা করার কথা রাহুলের। মোদীর সভায় অনুমতি অথচ রাহুলের সমাবেশে ‘না’ বলার জন্য শাসক দলের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, আমরা তো বলছি, তৃণমূল-বিজেপি’র গোপন আঁঁতাঁত হয়েছে। হাওড়ায় উপনির্বাচনে বিজেপি’র প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় থেকেই এ সব চলছে। এখন রাজনাথ সিংহ নরম হচ্ছেন আর নরেন্দ্র মোদী গরম দিচ্ছেন! বিজেপি’র সঙ্গে ভেতরে ভেতওে সমঝোতার কারণেই মোদীর সভার জন্য পুরসভার পার্ক ব্যবহার করতে দেওয়া হলেও রাহুলের ক্ষেত্রে তা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা নির্বেদ রায়, শুভঙ্কর সরকারের মতো নেতারা।