রজব মাসের ইবাদত

আপডেট : ০৮ মে ২০১৪, ১৮:২৮
আমাদের প্রিয় নবী (স.) প্রত্যেক বছর রজব মাস এলে দোয়া করতেন, “আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ও শা’বানা ওয়াবাল্লিগনা ইলা শাহরি রমাজানা” অর্থাত্ হে আল্লাহ আমাকে রজব ও শা’বানে বরকত দাও এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও। অন্যান্য সময় তিনি এধরনের দোয়া করে কোন মাস পাওয়ার জন্য প্রত্যাশা করতেন না। সে কারণে আমরা ও রসূলুল্লাহর মত এখন থেকে এই দোয়া করতে পারি। তাছাড়া এই রজব মাসের ২৭ তারিখে বিশ্বের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা মিরাজের অবতারনা হয়্ যার পূর্ব সময়কে রসূল (স.) ‘আমূল হুযন’ বা শোক দুঃখের বছর বলেছেন। কেননা এবছরই রসূল (স.) এর প্রাণ প্রিয় পুত্র ইব্রাহিমের ইন্তেকাল হয়। স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালেবের ইন্তেকাল হয়। অন্যদিকে মক্কার অবিশ্বাসীরা তাদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রসূল (স.) তখন এতটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ছিলেন যে তার একান্ত শান্তনা দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। কারণ যার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের আলো বিশ্বময় ছাড়িয়ে পড়বে তাঁর মন ভাঙ্গা হলে চলবেনা। তাই আল্লাহ তায়ালা প্রিয় হাবিবকে মেরাজের মাধ্যমে তাঁর সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিয়ে একান্ত শান্তনা দিয়েছেন এবং এমন সব অধ্যাদেশ দান করেছেন যা তার ও তার উম্মতদের জন্য অপরিহার্য্য ছিল। মহানবী (স.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের সুখবর দেব, যা মানুষের মনের হিংসা দূর করে? তা হলো প্রত্যেক মাসে ৩টি করে রোজা রাখা (নাসাঈ ১ম খন্ড)। অন্য বর্ননায় নবী (স.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখলো সে যেন সারা বছরই রোজা রাখলো। হযরত হাফসা (রা.) বলেন, চারটি জিনিস রসূল (স.) কখনোই ছাড়তেন না। তাহলো আশুরার রোজা, জিলহজ্বের দশটি রোজা, প্রতি মাসে ৩টি রোজা ও ফজরের আগে দু’রাকায়াত সুন্নাত নামাজ (নাসাঈ ১ম খন্ড)। হযরত আবুজর (রা.) বলেন, আমাকে আমার বন্ধু রসূল (স.) বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, আমি যেন তিনটি জিনিস কখনোই না ছাড়ি, তাহলো চাশতের নামাজ, ঘুমাবার আগে বেতরের নামাজ এবং প্রতি মাসে তিনটি রোজা (নাসাঈ ১ম খন্ড)। হযরত আবুজর গিফারিকে রসূল (স.) প্রতি মাসের তিনটি সিয়ামের দিন উল্লেখ করে বলেন, তা হলো প্রত্যেক আরবী মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ (তিরমিজি, নাসাঈ ও মেশকাত)। রসূল (স.) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের আমল আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমি রোজা থাকা অবস্থায় যেন আমার আমল পেশ করা হয়। (তিরমজি, মেশকাত, আবু দাউদ)। হযরত আয়েশা (লাঃ) বলেন, রসূল (স.) সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম খুজে বেড়াতেন (নাসাঈ-১ম খন্ড)। তাই তাকে একদিন সোমবার সিয়াম পালন করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এদিনে আমি জন্মেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর কুরআন নাযিল (হওয়া শুরু) হয়েছে (মুসলিম ১ম খন্ড ও মেশকাত)। অন্য বর্ণনায় এতটা বাড়তি আছে যে, ঐ দিনই আমি ইন্তেকাল করবো (ইবনে খুযায়মা ৩য় খন্ড)। তাছাড়া রসূল (স.) রজব মাস হতেই রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন সে কারণে রসূলের উম্মত হিসেবে আমাদেরও এমনটি করা উচিত্। প্রতিবছর দেখা যায় রমজান মাসের প্রথম দিন হতেই মসজিদ গুলিতে উপচে পড়া ভীড়। আর রমজান শেষ হলে তারাও হারিয়ে যায়। এভাবে ইবাদতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে সেটা আল্লাহর দরবারে গৃহিত হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। বিধায় রজব মাস হতেই আমরা আমাদের জীবনের একটি পরিবর্তন সূচিত করি। সে লক্ষে এখন থেকে তওবা করে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও আল্লাহর অন্যান্য হুকুম আহকাম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অভিপ্রায়ে সাধ্যমত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। আল্লাহ আমাদেরকে এই রজব মাস হতেই সে তাওফিক দান করুণ, আমীন।