রবিবার থেকে শুরু হবে গাড়িতে লাগানো কালো গ্লাস অপসারণ অভিযান। পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অপসারণ অভিযান চালাবে। অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু কালো গ্লাস অপসারণের নির্দেশনা নিয়ে গাড়ির মালিকরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
শুধু মাইক্রোবাস থেকে কালো গ্লাস অপসারণ করা হবে, নাকি সব গাড়ি থেকে অপসারণ করা হবে-এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কোন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আবার অনেক গাড়ির মালিক তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কারণে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে গাড়িতে কালো গ্লাস লাগিয়েছেন। এসব কালো গ্লাস অপসারণ করা হবে কিনা তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা নেই।
গত ৩০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাইক্রোবাসে লাগানো কালো, রঙিন, মার্কারী ও অস্বচ্ছ গ্লাস অপসারণের নির্দেশ দেয়। পরে ৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেসব গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড, দুই পাশের জানালা ও পিছনের কাঁচ ফ্যাক্টরীতে নির্মিত অবস্থায় সংযোজিত (বিল্ড-ইন), সেগুলোর ক্ষেত্রে উপরিউক্ত আদেশ (৩০ এপ্রিলের আদেশ) প্রযোজ্য হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত প্রজ্ঞাপনে গাড়ির ধরন নির্দিষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগেও বিভ্রান্তি রয়েছে। পুলিশ নির্দিষ্ট করে কোন্ ধরনের গাড়ি থেকে কালো গ্লাস অপসারণ করবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, পুলিশ কোন গাড়িতে কালো গ্লাস লাগানোর অনুমতি দেয়নি। তবে ফ্যাক্টরীতে লাগানো গাড়ির কালো গ্লাস অপসারণ করা হবে না। তিনি আরো বলেন, শুধু মাইক্রোবাস নয়, যেকোন গাড়িতে লাগানো কালো গ্লাস অপসারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে মাইক্রোবাসের পাশাপাশি প্রাইভেট কার ও জীপ গাড়ি এই সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়বে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়ির কালো গ্লাস অপসারণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে আগেই মাঠে নেমেছে। রাস্তায় চলাচলকারী কালো গ্লাসযুক্ত প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়িগুলোকে থামিয়ে ১০ মে’র মধ্যে অপসারণ করার জন্য নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, মতিঝিল, মহাখালী, বনানী, নীলক্ষেত ও গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এরকম সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাড়ি মালিক জানান, তিনি গাড়িতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে কালো গ্লাস স্থাপন করেছেন। ঐ গাড়িতে তার স্ত্রী যাতায়াত করেন বলে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ গাড়িতে কালো গ্লাস লাগানোর অনুমতি দেয়।
আরেকজন গাড়ির মালিক জানান, তিনি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অনুমোদন নিয়ে গাড়িতে কালো গ্লাস লাগিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জন অপহূত হন। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঐ অপহরণকারীদের ব্যবহূত মাইক্রোবাসে কালো গ্লাস ছিল বলে গাড়ি থেকে কালো গ্লাস অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
