জেলার ভালুকা উপজেলায় গত বুধবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বজ পাত বিদ্যুত্স্পৃষ্ট ও দেয়াল চাপায় মহিলাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছে ২ শিশু। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে গত বুধবার রাতে ঘরের উপর গাছ উপড়ে পড়লে দেয়াল চাপায় উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী জুলেখা বেগম (৫৫) তার নাতি জাহিদ (১৫) ও জামান (১২) গুরুতর আহত হয়। আহত জুলেখাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে তিনি মারা যান। এছাড়া রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার মামারিশপুর গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে পোশাক শ্রমিক আমিনুল ইসলাম (২৪) বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার নিশাইগঞ্জ গ্রামের জামে মসজিদে বিদ্যুতের কাজ করার সময় মেদিলা গ্রামের কান্দাপাড়ার সুরুজ মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৮) বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কুলাউড়ায় ঝড়ে আহত ২
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার উপর দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টায় প্রবল বেগে প্রবাহিত কালবৈশাখির ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এ সময় ঘাগটিয়া কমিউনিটি সেন্টারে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের ২ জন কর্মচারী মারাত্মক আহত হয়েছেন। আহত এ কে এম জুবের (২৭) ও আছিয়া বেগমকে (৪৫) কুলাউড়া উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বজ্রপাতে সেন্টারের সব বৈদুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার ইসলামগঞ্জ ফিডারের হোসেনপুর গ্রামের কাছে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের ১টি টাওয়ার ও ২টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে।
বড়াইগ্রামে ঝড়ে আহত ৫
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের উপর দিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে কমপক্ষে ১৫টি বাড়িসহ গাছপালা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পানের বরজ ও ধান-পাটসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া ডালের আঘাতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
