সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতংক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিনে সিলেট বিভাগ থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে পুলিশ ৩ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকিদের খোঁজ মিলেনি এখনও।
এদিকে অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সিলেট বিভাগজুড়ে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ব্যস্ততম সড়কে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। মহাসড়ক ও নগরীর রাস্তায় টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানান, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ ঠেকাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সন্দেহজনক গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৪ মে রাতে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান ও তার ড্রাইভার সোহেল, ৫ মে হবিগঞ্জ শহরের সায়েস্তানগর স্টেশন এলাকা থেকে ৫ লাখ টাকাসহ শামীম মিয়া, ৬ মে বিশ্বনাথ থেকে ফার্নিচার ব্যবসায়ী ফয়জুল হক, একই দিন সিলেট নগরী থেকে ৮০ হাজার টাকাসহ আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের প্রহরী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ও ৭ মে মৌলভীবাজার থেকে একজন ট্রাক ড্রাইভার নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ব্যাংক প্রহরী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ, ব্যবসায়ী ফয়জুল হক ও হবিগঞ্জের শামীমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ এ তিন জনকে উদ্ধার করলেও বাকিদের সন্ধান পায়নি এখনো। তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে বিশেষ টিম-জেলা ও জেলার বাইরে কাজ করছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সরকারি সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৫ বছরে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৭০ জন অপহূত হলেও এর মধ্যে ১৪৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজের ঘটনায় বিভাগের সকল পর্যায়ের পুলিশের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘সিলেট জুড়ে মানুষের মধ্যে আতংকে’র কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জনগণকে আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের ডিআইজি অফিসে সিলেট রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ভুঁইয়া। সভায় অপহরণ ঘটনাবলী ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা হয়। আর এ সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি, আসামিদের গ্রেফতার ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসেন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় সচেষ্ট। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেটে যে সব অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্ত চলছে। পুলিশ আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করছে। তিনি আরো জানান, সুনামগঞ্জ সড়কে নিখোঁজ প্রবাসী মুজিবুর রহমানের সন্ধানে ইতিমধ্যে পুলিশের একটি বিশেষ টিম ময়মনসিংহে কাজ করছে।
