প্রয়োগমূলক প্রশ্নের ধরন ও উত্তর কৌশল
এ জাতীয় প্রশ্নে শিক্ষার্থীর পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অনুধাবন নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার দক্ষতা যাচই করা হয়। প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীর নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকে। তাই প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী শিক্ষার্থী তার অর্জিত জ্ঞান ও অনুধাবন কাজে লাগিয়ে উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট গদ্য/কবিতা/উপন্যাসের আলোকে নতুনভাবে উত্তর করতে পারবে।
এ ধরনের প্রশ্ন মিল/সাদৃশ্য দেখাও, অমিল/বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর, তুলনামূলক আলোচনা কর, এক্ষেত্রে তুমি হলে কী করতে, উদ্দীপকটি গল্প/কবিতার কোন দিকটি নির্দেশ করে, তোমার দেখা এমন একটি বর্ণনা কর ইত্যাদি প্রশ্নবোধক শব্দ দিয়ে করা হয়। এ জাতীয় প্রশ্নবোধক শব্দ দিয়ে তোমার পাঠ্যবই থেকে যেসব প্রশ্ন হতে পারে তা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তরে মূলভাব ঠিক রেখে শিক্ষার্থীরা নিজের মতো করে উত্তর দিতে পারবে।
এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সহজে করতে হলে শিক্ষার্থীকে উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট পাঠ্য বিষয়টির মূল পাঠ বা মূল ভাবটিকে ভিন্ন বাস্তব প্রেক্ষাপটে এনে সাজানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তর উদ্দীপক কিংবা উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট পাঠ্য বিষয়ে সরাসরি না থাকলেও বক্তব্য বিষয়টির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা থাকবে। তাই চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রয়োগমূলক প্রশ্নের মোট নম্বর-৩। ১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে এবং ১ নম্বর প্রয়োগে। যদিও এক প্যারাতে সবগুলো তথ্য দিয়ে উত্তর লিখলেও হবে। তবে দুই/তিন প্যারা করাই ভালো। প্রয়োগ মানে আমরা জানি শিক্ষার্থী তার পাঠ্যবই থেকে যা জেনেছে এবং যা বুঝেছে তা নতুন ক্ষেত্রে অর্থাত্ উদ্দীপকে প্রয়োগ করবে। কাজেই উদ্দীপকটি যে ভাব/Theme-এর আলোকে তৈরি করা হয়েছে এবং উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট গল্প/কবিতার যে দিকটির সাদৃশ্য/বৈসাদৃশ্য থাকে সেটিই জ্ঞান। ঐ দিকটি একটি বাক্যে লিখতে পারলেই ১ নম্বর অর্থাত্ জ্ঞানের উত্তর হয়ে গেল। তারপর ঐ দিকটি/প্রসঙ্গটি পাঠ্যবই-এর আলোকে বর্ণনা করাই হল অনুধাবন। দ্বিতীয় প্যারায় অনুধাবন অংশের উত্তর লিখতে পারা এবং সবশেষে ঐ দিকটি উদ্দীপকে কীভাবে ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করাই প্রয়োগ।
উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের ধরন ও উত্তর কৌশল
এটি চিন্তন দক্ষতার চতুর্থ স্তর বা শেষ স্তর। উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নে শিক্ষার্থীর পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অনুধাবন নতুন কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত প্রদানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ জাতীয় প্রশ্নে- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর, যাচাই কর, মূল্যায়ন কর, বিচার কর, যথার্থতা নিরূপণ কর, পরামর্শ দাও, আলোচনা কর, সপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর ইত্যাদি প্রশ্নসূচক শব্দ ব্যবহার করা হয়।
এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে প্রশ্নোল্লিখিত বিষয় সম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত জানা থাকতে হবে এবং তা আলোচনার মাধ্যমে প্রশ্নের আলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
উদ্দীপক ও উদ্দীপক-সংশ্লিষ্ট বিষয়টি শিক্ষার্থী প্রশ্নের আলোকে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করবে।
এ জাতীয় প্রশ্ন অপেক্ষাকৃত জটিল হলেও শিক্ষার্থী যদি সংশ্লিষ্ট পাঠ্য বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে। উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের মোট নম্বর ৪। ১ নম্বর জ্ঞানে, ১ নম্বর অনুধাবনে, ১ নম্বর প্রয়োগে এবং ১ নম্বর উচ্চতর দক্ষতায়। উচ্চতর দক্ষতা মানেই একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। প্রশ্নেই সাধারণত একটা অনুসিদ্ধান্ত দেওয়া থাকবে। যদি সিদ্ধান্তটি সঠিক হয় তাহলে সেটাকেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে, উদ্দীপকে প্রয়োগ করে প্রমাণ করব যে সিদ্ধান্তটি সঠিক। আর যদি সিদ্ধান্তটি ভুল হয় তাহলে কেন ভুল সেটাও প্রমাণ করতে হবে। অনেক সময় সিদ্ধান্তটি আংশিক সত্য হতে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে অংশটুকুর মিল আছে তা বর্ণনা করে যে যে ক্ষেত্রে মিল নেই সেগুলোও বর্ণনা করতে হবে এবং সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দিতে হবে যে বক্তব্যটি/সিদ্ধান্তটি আংশিক সত্য, পুরোপুরি নয়। বিচার-বিশ্লেষণ-সংশ্লেষণ, মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার নামই উচ্চতর দক্ষতা। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি/প্রশ্নটি ভালোভাবে পড়ে পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে বুঝতে হবে। সিদ্ধান্ত বুঝতে ভুল হলে পুরো ৪ নম্বরে ০ পাবে। এক্ষেত্রে তিনটি/চারটি প্যারা করার চেষ্টা করবে।
লেখক :মো. সুজাউদ দৌলা,সিনিয়র প্রভাষক (বাংলা)
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।
