ভুল করে অন্য কারো উপহার বা পার্শেল নিজের বাড়ির ঠিকানায় চলে এলে হয়তো নেহাত মন্দ লাগে না। তবে কোনো একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার বাড়ির দরজায় পড়ে থাকা পার্শেল খোলার পর যদি আবিষ্কার করেন যে সেই পার্শেলের মধ্যে রয়েছে চালকবিহীন কোনো বিমান বা ড্রোনের অংশবিশেষ তবে ঘাবড়ে যাবারই কথা। আর শুনতে কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও সম্প্রতি এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে। স্থানীয় স্টিলওয়াগেন ব্যাংক মেরিন অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষের জন্য প্রাণীদের নজরদারিতে ব্যবহারের একটি ড্রোন পাঠাতে যেয়ে সেটির একটি অংশ ভুলবশত এই শিক্ষার্থীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়াতেই ব্যতিক্রমী এই ঘটনার জন্ম হয়। আর এক্ষেত্রে প্রেরক ইউএস ন্যাশনাল ওসেন এন্ড এটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দাবি, ভুলটা আদতে তাদের নয় বরং আটটি বক্সে করে পাঠানো ড্রোনটির একটি বক্স ভুলে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় পাঠিয়ে দেওয়ার পুরো দায়টিই পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে থাকা ইউপিএস এর। এদিকে নিজের ঠিকানায় ড্রোনটির একটি অংশ পাওয়ার পর বক্স খুলে পুরো ঘটনাটি আন্দাজ করতে পারেন ওই শিক্ষার্থী। এ ছাড়া সাথে থাকা কাগজপত্র পড়ে তিনি এটাও বুঝতে পারেন যে এই ড্রোনটি পাঠানো হয়েছে ন্যাশনাল ওসেন অ্যান্ড এটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নোয়ার কাছ থেকে। তাই দেরি না করে তিনি সাথে সাথেই নোয়া কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পক্ষ থেকেই এখন ওই ড্রোনের অংশটি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে নোয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পার্শেলটি অভয়ারণ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সেখান থেকেও তাদের জানানো হয়েছিল যে ড্রোনের একটি অংশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ধরনের প্রযুক্তি খুব সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন নোয়ার কর্তাব্যক্তিরাও। তবে ওই কলেজ শিক্ষার্থী নিজে থেকে যোগাযোগ করে ড্রোনের অংশ বিশেষ পাওয়ার কথা জানালে অনেকটাই স্বস্তি ফেরে তাদের মনে। ড্রোনটি প্রায় দুই ঘণ্টা সময় এবং আট মাইল সীমা পর্যন্ত এর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে সক্ষম বলেও জানিয়েছেন নোয়ার কর্মকর্তারা।
