নানা সমস্যায় জর্জরিত বিসিক শিল্পনগরী

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ১৯:৪২
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের নন্দনপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিক শিল্প নগরী। নানাবিধ সুবিধার সহজলভ্যতার কারণে এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা থাকলেও এটি প্রসার লাভ করতে পারেনি। কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হলেও এখানে রয়েছে নানা সমস্যা। প্লট সংকট, গ্যাস সংকট, সড়কের বেহাল দশা, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ সমস্যার মধ্যদিয়েও খুঁড়িয়ে চলছে এই শিল্প। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করলে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পনগরীতে গড়ে উঠতে পারে বিশ্বমানের শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতে এখানে উত্পাদিত পণ্য দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থােনর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ‘ঘরে ঘরে শিল্প গড়, দেশকে কর স্বনির্ভর’— এ স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৯৮ সালে ২১.৯৮ একর জমিতে ১৩৭টি প্লট নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিসিক শিল্প নগরীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। শুরুতেই শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিটি প্লটের বরাদ্দ দেয়া হয় ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। ব্যবসায়িক নানান সুযোগ-সুবিধার কারণে একযুগে প্রতিটি প্লটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় কোটি টাকায়। বিসিক এলাকায় একে একে গড়ে উঠেছে ৭১টি শিল্প-কারখানা যার মধ্যে চালু রয়েছে ৬৩টি। এখানে রয়েছে এ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্র, আটা, ময়দা, মুড়ি, বিস্কিট, চকলেট, সোডিয়াম সিলিকেট, প্লাষ্টিক সামগ্রীসহ নানা পণ্যের কারখানা। এসব কারখানায় বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হলেও এখানে রয়েছে প্লট সংকট, অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা, গ্যাস সংকট, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ সমস্যা। তাছাড়াও মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে নতুন ৩৫টি উদ্যোক্তার আবেদন। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন শিল্পোদ্যোক্তাদের শিল্প ইউনিট স্থাপন। অন্যদিকে এলাকাবাসী হারাচ্ছেন শত শত চাকরির সুযোগ। বিসিক এলাকায় বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় কেমিক্যালমিশ্রিত পানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আবাদি জমিতে গিয়ে ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীর তরুণ উদ্যোক্তা বিল্লাল হোসেন জানান- নানান সমস্যার পরেও আমরা এখানে খুব কষ্ট করে টিকে আছি। সরকার এই শিল্পে আরো বেশি নজরদারি করলে এবং আমাদের প্লট সংকট, গ্যাস সংকট, সড়কের বেহাল দশা, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ সমস্যার দ্রুত সমাধান করলে আমরা আরো বেশি লাভবান হতে পারবো। বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল অদুদ মিয়া বলেন, বিসিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রচুর ইন্ডাস্ট্রি হবার সম্ভাবনা আছে। বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব প্লাস্টিক সামগ্রী, সোডিয়াম সিলিকেট, তৈজসপত্র আমদানি করা হয় প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে আমাদের এই বিসিক শিল্প নগরীতেই তা উত্পাদন হতে পারে। অন্যদিকে উদ্যোক্তা অনুপাতে জায়াগা দিতে না পারায় নতুন ৩৫টি উদ্যোক্তার আবেদন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।