বিশ্ব অর্থনীতির টুকিটাকি

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ১৯:৪৩
পাম অয়েলে শুল্ক কমাতে পারে ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানির ওপর শুল্ক কমাতে পারে ইন্দোনেশিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয়। এ শিল্পটি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নিতে পারে বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল উত্পাদক ও রফতানিকারী দেশটি। খবর রয়টার্সের। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং দেশি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ১৯৯৮ সালে পাম অয়েল রফতানির ওপর শুল্ক আরোপ করে দেশটি। তবে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় যে অপরিশোধিত পাম অয়েল উত্পাদন হয় তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আরো অনেক উদ্বৃত্ত থেকে যায়। এদিকে এক পূর্বাভাষে বলা হচ্ছে, চলতি বছর দেশটিতে ২৮-৩০ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত পাম অয়েল উত্পাদন হবে এবং এর মধ্যে ২১ মিলিয়ন টন রফতানি করা যাবে। এছাড়া দেশটিতে পাম অয়েল পরিশোধনক্ষমতাও ৫০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর সেখানে ৪০ মিলিয়ন টন পরিশোধন করা যাবে। এ অবস্থায় শিল্পটির বিকাশে সরকার এ শিল্পে বিদ্যমান রফতানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে। সিঙ্গাপুরে সম্প্রসারিত হলেও চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সংকোচন টানা চার মাস ধরে সিঙ্গাপুরের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সমপ্রসারিত হচ্ছে। এইচএসবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, সরবরাহ আদেশ ও উত্পাদন বাড়ার ফলে এপ্রিলসহ চার মাসে এ সম্প্রসারণ হয়েছে। সিঙ্গাপুরে পিএমআই ফলাফলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ জিডিপির এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। খবর সিএনএন-এর। এইচএসবিসির পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রমের প্রধান নির্দেশক পিএমআই এপ্রিলে ৫১ দশমিক ১ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে যা ছিল ৫০ দশমিক ৮ পয়েন্টে। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে প্রবৃদ্ধি আর নিচে থাকলে সংকোচন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এদিকে এ অঞ্চলের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এপ্রিলে দেশটির পিএমআই ছিল ৪৮ দশমিক ১ পয়েন্ট। যদিও সরকারিভাবে প্রকাশিত এ খাতের পিএমআই ছিল ৫০ দশমিক ৪ পয়েন্টে। চলতি বছরের এপ্রিলসহ টানা চার মাস ধরেই এ সংকোচন চলছে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চীনা অর্থনীতি সমপ্রসারিত হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে, যা অক্টোবর-ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। সে সময়েও প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশের ঘরেই ছিল। ২০১৪ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হবে: ওইসিডি চলতি বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। এর কারণ হিসেবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর ফোরাম ওইসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জিডিপি প্রত্যাশার তুলনায় কম বাড়বে। গেল সপ্তায় প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে ওইসিডি জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে আশা করেছিল। সেসময় ওইসিডির পূর্বাভাস ছিল ২০১৪ সালে চীনের জিডিপি ৮ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, তা বড়জোর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হবে। ওইসিডির হিসাবে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে। চলতি বছর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের প্রবৃদ্ধিও পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ১ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছে ওইসিডি। মজুরি কমায় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার নিম্ন দুই বছরের মধ্যে কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার খুব কম। বিষয়টি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও সমপ্রসারণে দেশটির জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ভাবছেন নীতিনির্ধারকরা। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ উপাত্তে দেখা যায়, কর্মক্ষমদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ হার (পার্টিসিপেশন রেট) ৩৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির ব্যবধানের কারণেই এমনটি হচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গের। শ্রম পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, এপ্রিলে চলতি বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পার্টিসিপেশন রেট কমে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১৯৭৮ সালের পর সর্বনিম্ন। অনেকেই কাজ খোঁজা ছেড়ে দেয়ায় সরকারি হিসাবে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বেকারত্বের হার নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না এমন মানুষদের হিসাবে নেন পরিসংখ্যানবিদরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী মজুরি না বাড়ার প্রভাব পড়ছে দেশটির উত্পাদন ব্যয়ের উপর। আহসান হাবীব রাসেল