হারবাল চিকিত্সা : কোষ্ঠকাঠিন্য

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২০:৪৭
প্রতিদিন খাদ্যসমূহ খাবার পর সঠিক মাত্রায় এবং সঠিক সময়ে ভূক্ত খাদ্যাংশের বর্জ্য পদার্থ শরীর হতে বের না হওয়াকে কোষ্ঠকাঠিন্যবলে। খাদ্যের অসার দ্রব্য ৬ হতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শরীর থেকে বের হওয়াই নিয়ম। একজন সুস্থ মানুষ স্বাভাবিক খাদ্য খেয়ে প্রতিদিন বা ২৪ ঘন্টায় ১-২ বার মল ত্যাগ করে। অবশ্য অভ্যাসভেদে বিভিন্ন মানুষের মল ত্যাগের নিয়ম বিভিন্ন। এমনও মানুষ দেখা যায় যখনই ইচ্ছা করে তখনই মলত্যাগ করতে পারে। আবার এমনও হয় কেউ কেউ ৩/৪ দিন পরপর মলত্যাগে অভ্যস্থ। এগুলো আসলেই কোন রোগ নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বা অনেকগুলো রোগের লক্ষণ মাত্র।কোষ্ঠকাঠিন্য দুই প্রকার, যথা- আন্ত্রীক কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মলাশয় কোষ্ঠকাঠিন্য। আন্ত্রীক কোষ্ঠকাঠিন্যর কারণ- ১. স্বাভাবিক শাক সবজি, খাদ্য গ্রহণের পরে পানি কম, অল্প পরিমাণ খাদ্য খেলে, পর্যাপ্ত ঘামলে, শরীর হতে জলীয় দ্রবণ বের হয়ে গেলে এ রোগ গয়। ২. স্নায়ুতন্ত্রীয় রোগে, প্যারালাইসিস, মানসিক উত্তেজনা, দীর্ঘ দিনের পেটের ব্যথা উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ বা ক্ষুদ্রান্ত্রে ও বৃহদান্ত্রে সংকোচনে এ রোগ হয়। ৩. পেটের ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদান্ত্রের মাংসপেশী দুর্বল হলে বা জন্মগতভাবে অন্ত্রের কোন ত্রুটি থাকলে এ রোগ হতে পারে। ৪. অম্লরস বা পিত্ত রস কম নি:সরণ হলে এ রোগ হয়। ৫. অন্ত্রের কোন অংশে টিউমার বা অন্ত্রে প্যাঁচ লাগা বা কোন ভাবে খাদ্যবস্তু বাধাপ্রাপ্ত হলে। ৬. ডায়াবেটিস, বার্ধক্য, অলসতা, রক্তস্বল্পতা এবং বেশি বেশি ক্ষিদে পাওয়া এমন রোগের লক্ষণে এটা হয় মলাশয় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ- অভ্যাস জনিত কারণে অর্থাত্ মলত্যাগের চাপ হলেও ইচ্ছে করে আটকে রাখা এবং দীর্ঘ দিন এভাবে অভ্যস্থ হলে বা সময় মত মল ত্যাগের অভ্যাস না করা হলে এরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পরামর্শ- সবুজ শাক সবজি, আঁশ জাতীয় খাবার, আস্ত ফল-মূল পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত। সম্ভব হলে ফলের রস পান করুন। পানি প্রচুর পরিমাণে পান করুন। দৈনিক প্রায় ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কফি, চকলেট, মিষ্টান্ন কম খাওয়া উচিত। মল ত্যাগের সময় বেশি চাপ দিবেন না। যথা সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোন অবস্থাতেই ইচ্ছে করে মল ত্যাগের চাপ আটকিয়ে রাখা যাবে না। বিশেষত: শয্যা ত্যাগের পরপরই টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। (সূত্র:হামদর্দ)