ক’দিন আগেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “তৃতীয় ফ্রন্টকে সমর্থনের প্রশ্নই নেই। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা কংগ্রেস অর্জন করতে পারবে।” আর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম তাতে সংযোজন করে বললেন, “ভোটের পর সুযোগ তৈরি হলে কোনও অবস্থানেই সরকার গঠনের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসবে না কংগ্রেস। বরং এ ব্যাপারে সবরকম বিকল্প খতিয়ে দেখবে।”
রাহুলের সঙ্গে চিদাম্বরমের মতের খুব বেশি ফারাক নেই। ভোটগ্রহণ চলাকালীন এই প্রত্যয় দেখানোটাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও চিদাম্বরমের মন্তব্য তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কংগ্রেস সদর দফতরে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় চিদাম্বরম আরও বলেন, “১৯৮৯-র পরিস্থিতি এখন আর নেই। তখন ১৯৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও সরকার গঠন করেননি রাজীব গান্ধী। কিন্তু এখন সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি থাকলে কংগ্রেস কোনও সুযোগই ছাড়বে না। কংগ্রেসের সামনে সব দরজা খোলা রয়েছে।”
চিদাম্বরমের কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কংগ্রেসের এক কেন্দ্রীয় নেতা দু’বছর আগে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেবার সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট না করেই লড়েছিল কংগ্রেস। রাহুল ভোট প্রচারে বলছিলেন, কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বিরোধী আসনে বসবে। কিন্তু রাহুল এই কথা বললেও মূলায়ম সিংহ ও তার পুত্র অখিলেশ প্রচারে বারবার বলেছিলেন, ভোটের পর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকার গড়ার বিকল্প খোলা রয়েছে। কংগ্রেস সে কথা খণ্ডন করলেও মুলায়ম-অখিলেশ থামেননি। বরং বারবার এই বার্তাই দিয়ে গিয়েছিলেন যে, তারা সরকার গড়ার দৌড়ে রয়েছেন। সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে লেগে যায়। কংগ্রেসের ওই নেতার মতে, এখন কংগ্রেস এই তাসটাই খেলতে চাইছে, যাতে জোট শেষ হওয়ার আগেই কেউ তাদের খরচের খাতায় ফেলে না দেয়। — আনন্দবাজার পত্রিকা
