ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে মুন-ধলাই নদীতে ভাঙন

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২২:৪২
গত ২ দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে গতকাল শুক্রবার ভোর রাত থেকে জেলার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের পূর্ব সাওয়াইজুড়ি এলাকায় মনু নদীর ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ২৪টি পরিবারের বসতঘর ও আসবাবপত্র। এ ঘটনায় বিলীন হওয়া বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখরুজ্জামান নিজ উদ্যোগে শুকনো খাবার ও তার জমিতে ঘর তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করছেন বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজ মোহাম্মদ চৌধুরী ভাঙ্গনের কথা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। স্থানীয়রা জানান, মনু নদীর বাঁধের অন্তত ৩০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আতংকে রয়েছে পৌর এলাকাসহ কয়েকশ গ্রামের মানুষ। এদিকে গত ২-৩ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৫ টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ও রাতে বর্ষার আগেই আকস্মিক বন্যায় কমলগঞ্জে ৫শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে তলিয়ে যায় ভানুগাছ বাজার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দী পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। কমলগঞ্জ সংবাদদাতা সরেজমিনে ঘুরে ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের সরিষাবিল ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। রাত সাড়ে ৮টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ভানুগাছ বাজারের পাশে ধলাই নতুন ব্রিজ এলাকা ও গোপাল নগরের ২ টি স্থানে বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে অন্তত আরো ৫০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। উজানের পানি বৃদ্ধি পেলে যে কোন সময়ে ভাঙনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বন্যায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় উপজেলার ভানুগাছ বাজার, কুমড়াকাপন, উজিরপুর, বালিগাঁও, চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, গোপালনগর, করিমপুর, বাঁধে করিমপুর, গুলেরহাওর, ইটখলা, শ্রীপুর, কোনাগাঁও, গঙ্গানগর, মকাবিল, কুরমা পুরান বাজার, কুরমা চা বাগানের একাংশসহ প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়। এতে প্রায় ৫শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। নদীর পানি গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ৫টি স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি এবং ফাটলকৃত স্থান মেরামতেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।