‘যুবকের’ টাকা নিয়ে খুন হন ফয়েজ

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২২:৪৮
বন্ধ হয়ে যাওয়া এনজিও যুবক-এর টাকার লেনদেনের বিরোধের কারণে খুন হন রাজধানীর কলাবাগান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শেখ মুনিম ফয়েজ। ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারকৃতরা। ডিবি পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সাতজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া শাকিল খান ও লাশ বহনকারী প্রাইভেটকার চালক রফিকুল ইসলাম ওরফে ফরিদ, এ্যাম্বুলেন্স চালক মোস্তফা ও এ্যাম্বুলেন্স হেলপার ইমরান হোসেন গতকাল শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর তিন আসামি কাজী সিরাজুল আলম ওরফে কাজী সিরাজ, জাহিদ হাসান ওরফে সিজান ও নবীন হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নাসরিনকে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। গত ৫ এপ্রিল কলাবাগানের বাসা থেকে নিখোঁজ হন মুনিম ফয়েজ। পরের দিন ফয়েজের স্ত্রী নাহিদ ফারহানা কলাবাগান থানায় একটি জিডি করেন। তবে ঐ দিনই সকালে ফয়েজের লাশ (অজ্ঞাত) উদ্ধার হয় গাজীপুর চৌরাস্তায় বর্ষা সিনেমা হলের পার্শ্ববর্তী মহাসড়কের পাশ থেকে। ৭ এপ্রিল লাশ সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। সূত্র জানায়, ফয়েজের লাশ উদ্ধারের পর কলাবাগান থানা পুলিশ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নাসরিনকে তার রায়েরবাগের বাসা থেকে আটক করে। কিন্তু থানা পুলিশ তাকে ফয়েজ হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে নাসরিন আত্মগোপন করেন। এদিকে এক মাসেও থানা পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত তিন দিন আগে মামলার তদন্ত ন্যস্ত হয় মহানগর গোয়েন্দা দফতরে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের তিনটি টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় লাশ গোপন করার কাজে ব্যবহূত একটি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস। এদিকে গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘যুবকের ২ কোটি টাকা নিয়ে নাসরিনের সঙ্গে (নাসরিন যুবকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন) ফয়েজের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নাসরিন এ কাজের দায়িত্ব দেন কাজী সিরাজুল আলম ওরফে কাজী সিরাজকে (যুবকের গ্রাহক)। সিরাজ পেশাদার কিলার শাকিল খান, জাহিদ হাসান ওরফে সিজান ও নবীন হোসেনকে ভাড়া করে। কথা ছিল প্রত্যেককে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া হবে। ঘটনার দিন ৫ এপ্রিল ফয়েজকে কৌশলে রায়েরবাজারে নাসরিনের বাসায় ডেকে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ওখানেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া শাকিল খান, জাহিদ হাসান ও নবীন হোসেন মৃতদেহ সরানোর জন্য একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে। তখন বলা হয়েছিল অসুস্থ ফয়েজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। গ্রেফতারকৃত প্রাইভেটকার চালক ফরিদ ফয়েজকে গাড়ীতে তোলার পর বুঝতে পারেন ফয়েজ মারা গেছেন। এ অবস্থায় চালক মোহাম্মদপুর নিয়ে যাওয়ার পর গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখান। এবং তাদেরকে একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দেন। এরপর তারা এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভালুকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু গাজীপুর বর্ষা সিনেমা হলের কাছে পৌঁছলে তারা লাশটি নিয়ে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পড়ে। এরপর তারা লাশটি একটি ভ্যানে তুলে দিয়ে কৌশলে পালিয়ে আসে। ডিসিডিবি আরো বলেন, প্রধান অভিযুক্ত নাসরিনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্রিফিয়ে উপস্থিত ডিবি এডিসি (দক্ষিণ) ছানোয়ার হোসেন বলেন, ফয়েজকে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তির উপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের গ্রেফতার করা হয়। ব্রিফিং শেষে নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফয়েজের স্ত্রী নাহিদ ফারহানা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি দাবী করছি। এদের কারণেই আমার দুই শিশু সন্তান এতিম হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার দুই শিশু কন্যা।