ডিসি হিলের আধুনিকায়ন নিয়ে মুখোমুখি প্রশাসন

আপডেট : ০৯ মে ২০১৪, ২২:৫০
নগরীতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ডিসি হিলের (নজরুল স্কোয়ার) আধুনিকায়ন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ডিসি হিলে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। গত ৩০ এপ্রিল এই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগামী ২২ মে দরপত্র জমাদানের শেষ দিন। তবে ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পূর্ত সচিব, সিডিএ চেয়ারম্যান ও প্রকল্প পরিচালককে আইনি নোটিস দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ডিসি হিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। বাংলা নববর্ষসহ প্রায় সব ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই ডিসি হিল প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে। বিনোদন কর্মকাণ্ড ছাড়াও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণ, বৈকালিক আড্ডা, শরীর চর্চা এবং অবসর সময় কাটাতে ডিসি হিলে ছুটে আসেন। ডিসি হিলের (নজরুল স্কোয়ার) প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে একে একটি পরিপূর্ণ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনে ডিসির বাসভবন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে। আবার ডিসির বাসভবনে ওঠার জন্য বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাবও করা হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিসি হিল সরকারের এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের নামে রেকর্ডভুক্ত জায়গায় পার্ক নির্মাণের এখতিয়ার সিডিএ’র নেই। প্রশাসনের সম্মতি ছাড়া ওই বাসভবনের জমিতে কোনো প্রকল্প বা উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া বেআইনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গত ৫ এপ্রিল বন্দর নগরীতে সিডিএ ও গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি নগরীর ডিসি হিলের আধুনিকায়নে সিডিএকে একটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটেই কাজ শুরু করে সিডিএ। আহ্বান করা হয় দরপত্র। ডিসি হিলকে আধুনিকায়নের উদ্যোগে অতীতেও জেলা প্রশাসনের বাধা দেয়ার উদাহরণ রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০০৪ সালের অক্টোবরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত ডিসি হিলকে নজরুল স্কোয়ার নামকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা। কিন্তু তত্কালীন জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম এ উদ্যোগে বাধা দেন। তবে সাংবাদিকদের অনড় অবস্থানের কারণে অবশেষে ডিসি হিলের নজরুল স্কোয়ার নামকরণ সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ডিসি হিল দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাংলো হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনিতেই দিন-রাত হৈচৈয়ে বাসায় থাকা দায়। তার ওপর নতুনভাবে পার্ক নির্মাণ হলে বাংলোটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থেই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিক যেহেতু জেলা প্রশাসন। তাই তাদের সম্মতি ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব হবে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, ডিসি হিলের আধুনিকায়নের খসড়া প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে ওয়াকওয়ে বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের হাঁটার জায়গা বাড়ানো হবে। এছাড়া বর্তমান গ্যালারির ওপরে আরও একটি গ্যালারি নির্মাণ করা, পুরো নগরীর সৌন্দর্য উপভোগে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি থিয়েটার গ্যালারি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।