রাজধানীতে বখাটের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিধবা তিন সন্তানের জননী পরীবানু (৪০) আত্মহত্যা করেছেন। খিলগাঁওয়ে পুকুরে ডুবে সালমা নামে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, পৃথক ঘটনায় অপমৃত্যু হয়েছে সোনিয়া আক্তার (২৫) ও আবু সুফিয়ানের (৪৫)।
পরীবানুর ছোট ভাই উজ্জ্বল জানায়, পরীবানুর স্বামী ৬ বছর আগে মারা যান। তার তিন সন্তান রয়েছে। তিনি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। বাড্ডার মগারদিয়া এলাকায় তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। মিজান আলী নামে স্থানীয় এক বখাটে তাকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি গত বুধবার তিনি শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। বৃহস্পতিবার পরীবানুসহ তিনজন ওই বখাটের বাসায় গিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বখাটে মিজান, তার ভাই কামাল, স্ত্রী সুফিয়া, আতিকুলসহ ৫/৬জন তাদেরকে মারধর করে। এই মারধরের বিষয়টি মানতে না পেরে শুক্রবার সকালে ওড়না পেঁছিয়ে আত্মহত্যা করেন পরীবানু। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মৃত সালমার প্রতিবেশি মোজাফ্ফর হোসেন জানান, সালমা তার পরিবারের সঙ্গে খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ার শেখের জায়গায় থাকতেন। সে গোড়ান আলী আহমেদ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমা কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। পুকুরে নামার কিছুক্ষণের মধ্যে সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সোনিয়া তার স্বামী জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মহাখালীর আইপিএসএইচ ১৮/এইচ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার পারিবারিক কলহের জের ধরে সোনিয়া ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ডুমুরিয়া গ্রামে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই লিয়াকত আলী জানান, বনানী ডিওএইচএস ৬ নম্বর রোডের, ৭৩-বি নম্বর বাড়ির সামনে থেকে আবু সুফিয়ানের লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সকাল ৮টার দিকে তিনি ওই ভবনের লিফটের তিন তলা থেকে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী এলাকায়।
