লোডশেডিং, পানি সংকট আর মশার যন্ত্রণা—এই তিন প্রকট সমস্যায় পড়ে খুলনাবাসীর যেন নাভিশ্বাস উঠেছে। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই এই তিন যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরীর পনেরো লক্ষাধিক মানুষ। তবে সমস্যা তিনটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী আর ব্যবসায়ীরা। এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং, পানি সংকট আর মশার কামড়ে নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও সমস্যা সমাধানে সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অনেকটাই উদাসীন। গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই খুলনা মহানগরীতে শুরু হয়েছে ঘনঘন লোডশেডিং। প্রতিদিন চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। নিয়মিতভাবে কেবল দিনে নয় রাতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া লোডশেডিং-এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যে।
লোডশেডিং-এর পাশাপাশি নগরীর প্রায় সর্বত্রই এখন পানির জন্য হাহাকার। এক কলস পানির জন্য নগরবাসীকে প্রতিদিন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটতে হচ্ছে। কেসিসি’র একটি সূত্র জানায়, নগরীর ১৫ লাখ মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত তিন লাখ গ্যালন পানির চাহিদা রয়েছে। ৪ হাজার গভীর ও ৭ হাজার অগভীর নলকূপ এবং অন্যান্য উত্স থেকে দৈনিক মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ গ্যালন পানি পাওয়া যায়। তবে ঘন ঘন লোডশেডিং-এর কারণে পানি উত্তোলনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে নগরীর বেশিরভাগ গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নলকূপ অকেজো হয়ে রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে অকেজো নলকূপগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না বলে খুলনা ওয়াসার একটি সূত্র জানায়। ফলে নগরীতে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অপরদিকে নগর জুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মশার দাপট। শীত মৌসুম বহু আগে শেষ হলেও সিটি কর্পোরেশন এখনো নালা-নর্দমা ও ড্রেন পরিষ্কার করার কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ফলে বর্তমানে এগুলো মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, মশার কামড়ে চুলকানি, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও গোদসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই হচ্ছে ভাসমান ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই অসুস্থ মানুষ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।
