দল গোছানোয় গতি নেই বিএনপিতে

আপডেট : ১০ মে ২০১৪, ২৩:২৯
দল গোছানো থেকে শুরু করে সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নে স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি। তোড়জোড় করে শুরু হলেও মাঝপথে গিয়ে অনেক নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হোঁচট খাচ্ছে। সারাদেশে দল পুনর্গঠন ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হলেও বর্তমানে তার গতি শ্লথ হয়ে গেছে। দলের ভেতরের একটি অংশ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব। দলের হাইকমান্ডকে বোঝানো হয়েছে, দেশের সব জেলা কমিটিতে হাত দেয়ার দরকার নেই। যে সব জেলার নেতারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে সফলতা দেখিয়েছেন সেসব জেলা কমিটি বহল রাখা হোক, পুনর্গঠন করার দরকার নেই। ফলে খুলনা, ফেনী, মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলার কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার জন্য বৈঠক আহবান করেও পরে তা বাতিল করেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। একনাগাড়ে এক পক্ষকাল জেলা কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ এবং কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করে দিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। এই কার্যক্রমের ফলে গত মাসের শেষ দুই সপ্তাহ দলের গুলশান এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় দফতর সরগরম হয়ে উঠেছিলো। সারাদেশ থেকে মাঠ নেতারা আসছিলেন। কিন্তু অকস্মাত্ চলতি মে মাস থেকে মাঠ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বন্ধ করে দেন চেয়ারপার্সন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, দলের সবগুলো জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, থানা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন কমিটি করা হবে। সেই অনুযায়ী বেগম জিয়া পঞ্চগড়, নীলফামারী, নওগাঁ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ (উত্তর), চুয়াডাঙ্গা, নড়াইলসহ ১৩টি জেলা কমিটি ভেঙ্গে আহবায়ক কমিটি করে দেন। তাদেরকে ৪৫ দিন করে সময়ও বেধে দেন সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য। ইতিমধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন শ্রমিক দলের কাউন্সিল হয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি হয়েছে। এই দৃশ্যপটে দলের চেয়ারপার্সনের আস্থাভাজন কয়েকজন সিনিয়র নেতা বেগম জিয়াকে পরামর্শ দিতে থাকেন সব জেলার সঙ্গে বসতে গেলে আন্দোলনের পথে কালক্ষেপণ হবে। তাই ঢাকার দিকে মনোযোগ দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। সারাদেশে মাঠ নেতারা আন্দোলনে সাফল্য দেখিয়েছে। এখন কর্তব্য হলো-যে সব জেলায় আন্দোলনের সাফল্য অক্ষোকৃত কম সেসব জেলার কমিটি পুনর্গঠন করা। সব জেলাকে ডাকার দরকার নেই। এদিকে প্রায় তিন মাস আগে দল গুছিয়ে মাঠে নামার হাইকমান্ডের ঘোষণার পরেও বিষয়টি নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। নির্বাচনের পর কেন্দ্র থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না আসায় মাঠের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি কিভাবে আদায় করা যায় সে জন্য তিনি একটি রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন নীতিনির্ধারকদের। এই রোডম্যাপ প্রণয়নের দায়িত্বে রয়েছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন। তবে সাবেক আমলা ও পেশাজীবীর সংখ্যাই এতে বেশি। ফলে এর ফল নিয়েও সাধারণ নেতারা সন্দিহান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিএনপি অনেক বড় দল। একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনার প্রয়োজন থাকে। আমাদের দল গোছানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলকে গতিশীল করে তোলার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরে এগোচ্ছে। আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের ক্ষেত্রে কোন সমস্যাই স্থায়ী নয়। বড় আন্দোলনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে যা যা কর্তব্য তা চিন্তাভাবনা করেই করছেন চেয়ারপার্সন। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করতে আরো কিছুটা সময় দরকার। আন্দোলনের জন্য দল প্রস্তুত আছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ বলেন, যে কোনো কমিটিকেই ঢেলে সাজানোর আগে অনেকগুলো দিক বিবেচনা করতে হয়। বিএনপি’র মতো একটি বড় দলের পুনর্গঠন রাতারাতি সম্ভব নয়।