নগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর-এ গতকাল শনিবার অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আগুনের ধোঁয়ায় হাসপাতালের ভেতরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। চিকিত্সাধীন ও চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও কেউ হতাহত হয়নি। কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ঘটনা তদন্তে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক কমিটি গঠন করেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ১০ তলা ভবনের ৯ তলায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ফ্লোরে রয়েছে ২টি সম্মেলন কক্ষ, ১টি অফিস ও চেয়ারম্যানের কক্ষ। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে গতকাল সকাল ৮টা ২০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি গিয়ে প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ওই ফ্লোরে আসবাবপত্র, এসি, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ও চিকিত্সা সরঞ্জাম পুড়ে যায়।
নগরীর ব্যস্ততম প্রবর্তক মোড় এলাকায় চট্টগ্রামের বৃহত্তর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর অবস্থিত। এই হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিত্সা কার্যক্রম ছাড়াও রয়েছে নামি-দামি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের চেম্বার ও রোগ নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাব। এখানে প্রতিদিন শতশত মানুষ চিকিত্সা নিতে ভিড় জমায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে গতকাল সকালে যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন লোকজনের সমাগম কম ছিল। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের সামনে প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অগ্নিনির্বাপণের কয়েক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানাউল্লাহ শেলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। এতে প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগার পর চিকিত্সাধীন প্রায় ৫০ জন রোগীকে আমাদের কর্মীরা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবস্থা থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। চিকিত্সা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ২-১ দিনের মধ্যে বিদ্যুত্ সংযোগ স্বাভাবিক হলে চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয় করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘হাসপাতালটি বেসরকারি হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিয়ে করা হয়েছে। তাই আমরা ঘটনা তদন্তে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রফিক উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছি। পানি ও বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।’
