কালো কাঁচ নামিয়ে স্বচ্ছ কাঁচ লাগাতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই গাড়ির মালিকদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের শেষদিন গতকাল শনিবার পর্যন্ত অনেকেই তাদের গাড়ির কালো কাঁচ পরিবর্তন করতে পারেননি। কাঁচ পরিবর্তন করতে রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরেও কোন লাভ হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গাড়ির মডেল অনুযায়ী স্বচ্ছ কাঁচ মেলেনি। কালো কাঁচ অপসারণের নির্দেশ দেয়ার পর যেসব দোকানে স্বচ্ছ কাঁচ ছিল তা ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। স্বচ্ছ কাঁচের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, গাড়ির সংখ্যা অনুযায়ী স্বচ্ছ কাঁচ আমদানি হয় অনেক কম। হঠাত্ করে স্বচ্ছ কাঁচ লাগানোর নির্দেশ দেয়ায় আগের আমদানি করা স্বচ্ছ কাঁচ নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে।
গতকাল শেষ দিনে রাজধানীর গাড়ির গ্লাস পরিবর্তনের দোকানগুলোতে ছিল বেজায় ভিড়। ইস্কাটন, ফকিরাপুল, বিজয়নগর, মিরপুর-১ গোলচক্কর, ধোলাইখাল, রাজারবাগ, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে কাঁচ পরিবর্তনের জন্য দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। রাজারবাগের আউটার সার্কুলার রোডে গাড়ির কাঁচ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রাইম মোটরসের তানভীন আহমেদ জানান, দেশের অধিকাংশ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে কালো কাঁচ ব্যবহার হয়ে আসছে। এজন্য তাদের আমদানি করা কাঁচের ৯৫ শতাংশই কালো। স্বচ্ছ কাঁচ আমদানি করা হয় মাত্র ৫ শতাংশ। হঠাত্ সরকারের ঘোষণায় বাজারে স্বচ্ছ কাঁচের চাহিদা বেড়ে গেছে। সে অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় স্বাভাবিক কারণেই দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। সরবরাহ স্বল্পতার জন্য যে দাম চাওয়া হচ্ছে তাতেই মালিকরা স্বচ্ছ কাঁচ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইস্কাটন এলাকার একটি মোটর ওয়ার্কশপের কর্মচারী পিন্টু জানান, শনিবার তিনি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৬টি গাড়ির ১৪টি কালো কাঁচ খুলে স্বচ্ছ কাঁচ লাগিয়েছেন। একটি মাইক্রোবাসের মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, তার গাড়ির কালো কাঁচ পরিবর্তন করার জন্য ৩০ থেকে ৪০টি দোকানে ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও স্বচ্ছ কাঁচ পাননি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর হঠাত্ বেড়ে গেছে স্বচ্ছ কাঁচের দাম। গ্রাহকদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি দাম চাইছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে স্বচ্ছ ¬কাঁচের সংকট দেখা দেয়ায় দাম বেড়েছে। কালো কাঁচ অপসারণ করে স্বচ্ছ কাঁচ লাগানোর জন্য রাজারবাগ এসেছিলেন মাইক্রোবাসের মালিক নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, আগে একটি স্বচ্ছ কাঁচের দাম ছিলো ১২শ’ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। অথচ তার গাড়ির চারটি কালো কাঁচ পরিবর্তন করার জন্য দিতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। যদিও এই চারটি কাঁচের দাম হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এর ৬০ শতাংশ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাড়িতে আলাদাভাবে লাগানো রঙিন, কালো, মার্কারি, অস্বচ্ছ ফিল্ম, পলিথিন ও পাস্টিক জাতীয় কৃত্রিম আবরণ অপসারণ করতে হবে। এ নির্দেশ অমান্য করা হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যেসব গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড, দুই পাশের জানালা ও পেছনের কাঁচ ফ্যাক্টরিতে নির্মিত অবস্থায় সংযোজিত (বিল্ট-ইন) সেগুলোর ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান মো: রেজোয়ান বলেন, যেসব গাড়িতে কালো গ্লাস থাকবে (বিল্ট-ইন বাইরে) সেগুলোকে মোটরযান আইনে জরিমানা করা হবে। মোটরযান আইনের ১৫১ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৬২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) জয়দেব ভদ্র বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ রবিবার থেকে অভিযান চলবে। অভিযানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
