পরিবার:ছোট্ট একটা ভালোবাসার নাম

আপডেট : ১১ মে ২০১৪, ১৯:৪৪
পরিবার। সামাজিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। একজন মানুষের সর্বপ্রথম বিদ্যাপিঠ। সেটাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বললেও ভুল হয় না। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও দৃঢ় বন্ধনের মাধ্যমে পরিবারে একজন মানুষ সমাজের সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে থাকে। পরিবার সমাজের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। পরিবার একটি প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে ভবিষ্যত্ জীবনের পথনির্দেশনা গড়ে উঠে। এই পরিবার নিয়ে মানুষের কত স্বপ্ন। অনেক ভালোবাসার আরেক নাম পরিবার। সেই রঙিন স্বপ্ন জানান দেয়ার চেষ্টা। মো. হানিফ এবং রোকেয়া খানম আলো বিয়ে করেছেন ১৩ বছর হলো। তাদের সংসার আলো করে এসেছে দুই কন্যা সন্তান। জেসি এবং জাহিন। দুই মেয়ে নিয়েই তাদের পরিবার। আছেন বেশ সুখেই। কথা হয় মো. হানিফের সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পরিবার আমার কাছে সব। পৃথিবীর সব একদিকে আর আমার পরিবার একদিকে। সারাদিন অফিস করে বাসায় এসে মেয়ে দুইটার পবিত্র মুখ দেখলেই সকল কষ্টের কথা ভুলে যাই। আমার মেয়েদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা ভালো আছি। সুখে আছি। মো. আরিফ হোসেন এবং জেসমিন নাহিদ। বিয়ে করেছেন তিন বছর হলো। কথা হলো তাদের সঙ্গে। এই দুইজন জানান, সংসারটা সাজানোর চেষ্টা করছি। মো. আরিফ হোসেন বলেন, আমি পরিবার বলতে বুঝি বাবা-মা, ভাই-বোনদের নিয়ে সুন্দর সময় পার করা। পরিবারে হাসি থাকবে। পরিবার ছাড়া আসলেই মানুষ অসহায়। আমার ভালোতে মন্দোতে পরিবারকে পাশে পাই। সবাইকে নিয়ে বেশ ভালো আছি। মোবাশ্বেরা জাহান নামের এক মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি পড়ছেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। পরিবার নিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে বেশ ভালোই থাকি, ভালোই আছি। তবুও আরেকটা পরিবারের স্বপ্ন দেখি। আমি একজনকে ভালোবাসি। তাকে নিয়েই বাকি জীবনটা পার করতে চাই। স্বপ্ন দেখি সুখী, সুন্দর এবং প্রাণবন্ত একটা পরিবার হবে আমাদের। এমন জীবনের স্বপ্নতো আমরা দেখতেই পারি! রাজেস সাহা। চাকরি করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। পরিবার নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস উদযাপনের বিষয়টি সাধারণভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় না হলেও সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এ দিবস পালনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও বন্ধন দৃঢ় হয়। তিনি বলেন, সামাজিক অগ্রগতি ও জীবনমান উন্নয়নে সমাজের ভিত্তি পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে পরিবারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টিই পরিবার দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য। দিবসটি উদযাপন পারিবারিক দায়ভার ভাগাভাগি করে নেয়ার একটি প্রয়াস মাত্র। আশিকুর রহমান নামের একজন পরিবার নিয়ে বলেন, আমি মনে করি, পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকা হবে সমান। সদস্যদের অধিকার হবে সমান, মর্যাদা হবে যথাযোগ্য। কারণ পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। বিদ্যমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য পরিবারের ভূমিকা আছে। মানবাধিকার ও নারীদের অগ্রগতি পরিবার দ্বারা প্রভাবিত। রাষ্ট্রের সামাজিক উন্নয়নে পরিবারের ভূমিকা ও দায়িত্ব রয়েছে। পরিবার দিবসের কথা ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। তবে, ঘটা করে পরিবার দিবস পালন শুরুর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। শিল্প বিপ্লবের পর পশ্চিমাদের মধ্যে পরিবারের প্রতি অনাগ্রহ দেখা দেয়। আর এ অনীহার কারণে পারিবারিক বন্ধনে দেখা দেয় অস্থিতিশীলতা। বাড়তে থাকে বিবাহ বিচ্ছেদসহ নানা সামাজিক সমস্যা। যার প্রধান শিকার হয় শিশু। অনেক শিশুই বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হতে থাকে। পারিবারিক বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ়ীকরণ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস ঘোষিত হয় এবং ১৯৯৫ সাল থেকে সমগ্র বিশ্বে প্রতি বছর এ দিনটি আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৫ সালে কোপেন হেগেনে অনুষ্ঠিত সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনে সামাজিক সংহতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ হিসেবে চিহ্নিত করে। তাছাড়া সম্মেলনে ‘সবার জন্য সমাজ’ ঘোষণা করে সমাজের সকল গ্রুপ, বিশেষত যারা ঝুঁকিপূর্ণ ও পশ্চাদপদ অবস্থায় রয়েছে তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদান করে। আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে বিশ্বের প্রতিটি পরিবারের বন্ধন দৃঢ় হোক এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সকল পরিবার সুখী হোক সেই প্রত্যাশা করছি।