বিদেশী টিভি চ্যানেল সমপ্রচারে ২০ কোটি টাকা ফি আরোপের পক্ষে এনবিআর

আপডেট : ১১ মে ২০১৪, ২০:৩৪
বিদেশী টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে সমপ্রচার করতে হলে প্রতিটির ক্ষেত্রে শুরুতে ২০ কোটি টাকা সমপ্রচার ফি বাবদ প্রদান করতে হবে। এসব চ্যানেলের কাছ থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং দেশীয় চ্যানেলকে বিদেশী চ্যানেলের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তা করছে সরকার। ইতিমধ্যে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এমন একটি সুপারিশ তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছে। বিদেশী চ্যানেলগুলো থেকে কীভাবে সরকার প্রাপ্য বুঝে পেতে পারে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে একটি কমিটি গঠন করে এনবিআর। কমিটির প্রধান করা হয় এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করিমকে। ওই কমিটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই সুপারিশ ঠিক করে। গতকাল ইত্তেফাককে সৈয়দ আমিনুল করীম বলেন, বাংলাদেশে চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে চালু হবে এমন বিদেশী চ্যানেল থেকে সরকার যাতে যথাযথ প্রাপ্য আদায় করতে সে জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তৈরি করেছি। এটি আজ (গতকাল রবিবার) সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর কথা। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বিদেশী চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে অবাধে ব্যবসা করে গেলেও সরকার কাঙ্খিত রাজস্ব পাচ্ছে না। অন্যদিকে তাদের কাছে মার খাচ্ছে দেশীয় চ্যানেলগুলোও। সমপ্রতি বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিকদের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ের সুরাহা চেয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তারা জানান, দেশীয় চ্যানেলগুলো যেভাবে কর প্রদান করতে হয় বিদেশী চ্যানেলগুলোকে সেভাবে প্রদান করতে হয় না। ফলে তাদের কাছে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না এসব চ্যানেল। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতের চ্যানেল বাংলাদেশে অবাধে সম্প্রচার করতে পারলেও ভারতে বাংলাদেশী চ্যানেলের উপর অত্যধিক কর আরোপের কারণে সেখানে এদেশীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার সম্ভব হয়ে উঠে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশী চ্যানেলের মধ্যে মূলত প্রতিবেশী ভারতের চ্যানেলের দর্শকই বাংলাদেশে বেশি। দেশটির স্টার প্লাস, জি বাংলা, স্টার জলসা, জি সিনেমাসহ বাংলা ভাষা ছাড়াও বেশ কয়েকটি হিন্দি চ্যানেল এ দেশে জনপ্রিয়। এসব চ্যানেলে বাংলাদেশী পন্যের বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হয়। বাংলাদেশী চ্যানেলে সরকার ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করলেও এসব চ্যানেল এর আওতার বাইরে রয়ে গেছে। দেশীয় চ্যানেল মালিকদের ২৫ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্কও পরিশোধ করতে হয়।